
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে খুলনার খালিশপুরে নির্মাণাধীন রূপসা ৮০০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যয় কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পটির প্রথম সংশোধনীতে মোট ব্যয় প্রায় ১ হাজার ৭৩৬ কোটি ৩৫ লাখ টাকা কমানোর পাশাপাশি বাস্তবায়নের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
একনেক সভায় প্রকল্পটির প্রথম সংশোধনী অনুমোদনের জন্য এ প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। সংশোধিত পরিকল্পনা অনুযায়ী চুক্তিমূল্য অনুমানের চেয়ে কম হওয়া, প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় পুনর্বিন্যাস এবং কিছু অপ্রয়োজনীয় প্যাকেজ বাদ দেওয়ার কারণে প্রকল্প ব্যয় কমছে। অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে এলএনজি বা প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের অনিশ্চয়তা, মহামারি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাবসহ বিভিন্ন কারণে বাস্তবায়নের সময় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) অর্থায়নে এবং নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেডের (এনডব্লিউপিজিসিএল) বাস্তবায়নে খালিশপুরের সাবেক নিউজপ্রিন্ট মিলস লিমিটেডের প্রায় ৫০ একর জমিতে প্রকল্পটি নির্মাণ করা হচ্ছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, ডলারের বিনিময় হার ও সুদের হার বাড়লেও মূল ঠিকাদারদের চুক্তিমূল্য প্রাক্কলনের তুলনায় কম হওয়ায় প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ১ হাজার ৭৩৬ কোটি টাকা কমছে। এই পরিমাণ মূল বাজেটের প্রায় ২০ শতাংশ।
এদিকে বিদ্যুৎ খাতের ইউনিফাইড এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্ল্যানিং (ইআরপি) ব্যবস্থা সরকারের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। ফলে প্রকল্পের মূল পরিধিতে থাকা কিছু অপ্রয়োজনীয় প্যাকেজ বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব পরিবর্তনের ফলেও প্রকল্প ব্যয় কমছে।
তবে কেন্দ্রটির দুটি ইউনিট চালাতে দৈনিক প্রায় ১৪০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হবে। দীর্ঘমেয়াদে প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় প্রকল্পের বাস্তবায়ন মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে তিতাস গ্যাসের পাইপলাইনের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের কাজও প্রকল্পের আওতায় রয়েছে।
রূপসা বিদ্যুৎকেন্দ্রটি কম্বাইন্ড সাইকেল প্রযুক্তিতে নির্মাণ করা হচ্ছে। এ প্রযুক্তিতে গ্যাস টারবাইন থেকে উৎপন্ন বর্জ্য তাপ কাজে লাগিয়ে স্টিম টারবাইনের মাধ্যমে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। ফলে একই পরিমাণ জ্বালানি ব্যবহার করে তুলনামূলক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে এবং প্রচলিত প্রযুক্তির তুলনায় কার্বন নিঃসরণও কম হতে পারে।
প্রকল্পটির অর্থায়নে রয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইএসডিবি), জাপান ফান্ড ফর পোভার্টি রিডাকশন (জেএফপিআর) এবং বাংলাদেশ সরকার। কেন্দ্রটির নির্মাণকাজে চীনের সাংহাই ইলেকট্রিক গ্রুপ (এসইসি) ও ইতালির আনসালদো এনার্জিয়া (এএন) সংশ্লিষ্ট রয়েছে। প্রকল্পে পরিবেশবান্ধব জিরো লিকুইড ডিসচার্জ (জেডএলডি) প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য হলো খুলনা, যশোরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা। পদ্মা সেতু চালুর পর এ অঞ্চলে বাড়তে থাকা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণেও কেন্দ্রটি ভূমিকা রাখবে বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের আশা।
কেন্দ্রটির উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) নতুন উচ্চক্ষমতার সঞ্চালন লাইন নির্মাণের কাজ করছে।
এদিকে একই একনেক সভায় ‘খুলনা বিভাগে বিদ্যমান শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ’ প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এর আওতায় খুলনা বিভাগের বিদ্যমান শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর ভৌত অবকাঠামো সংস্কার ও আধুনিকায়নের পাশাপাশি আধুনিক প্রশিক্ষণ সরঞ্জাম এবং আবাসন সুবিধা উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বৃত্তিমূলক ও কারিগরি প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানো। এর মাধ্যমে তাদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করার পরিকল্পনা রয়েছে।


