ফারাক্কার প্রভাবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী-খাল ভরাট হয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ওপর থেকে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ না থাকায় নিচ থেকে আসা পলি জমে কয়েকশ খাল-বিল ও প্রায় ৫৪টি নদী ভরাট হয়ে গেছে। একই সঙ্গে বাড়ছে লবণাক্ততা।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় খুলনার সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার সোলার পার্কে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) ও বিকাশ লিমিটেডের যৌথ বনায়ন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সুন্দরবন ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় ভারতকে বাংলাদেশের প্রাপ্য মিষ্টি পানির হিস্যা দিতে হবে। শুধু আলোচনা বা কূটনৈতিক বক্তব্যে মিষ্টি পানির সংকটের সমাধান হবে না। এ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। সম্প্রতি ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকেও বিষয়টি তুলে ধরেছেন বলে জানান তিনি।
শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ওপর থেকে মিষ্টি পানির প্রবাহ না এলে সাগরের লবণাক্ত পানি ও মিষ্টি পানির সংযোগস্থলে সুন্দরীসহ সুন্দরবনের উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হবে। মানুষের হস্তক্ষেপে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হলে সুন্দরবন রক্ষা কঠিন হবে। সুন্দরবনের পাশে থাকা লাল শ্রেণির শিল্পপ্রতিষ্ঠানের দূষণ নিয়ন্ত্রণেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি জানান, সরকার সারা দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি গাছ লাগানো হয়েছে। আরও ২ কোটি কেওড়া চারা ও বীজ প্রস্তুত রয়েছে। আগামী ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে উপকূলীয় এলাকায় এসব রোপণ করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বিচারে বৃক্ষরোপণ নয়, পাহাড়, সমতল, উপকূল, কৃষিজমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা পরিকল্পনা নিয়ে সুষম বৃক্ষায়ন করা হবে। এ কাজে এনজিওসহ বিভিন্ন সংগঠনকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।
বজ্রপাত মোকাবিলায় চলতি বছর যশোর, মাগুরা, নড়াইল, খুলনা ও সাতক্ষীরায় প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার তালগাছ লাগানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জুর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন কেসিসির প্রধান নির্বাহী রাজিব আহমেদ, খুলনা ওয়াসার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনি, খুলনা বিভাগীয় বন সংরক্ষক মো. ইমরান আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


