
পরিবেশ সুরক্ষায় সবুজ অর্থায়ন, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও প্রকৃতিনির্ভর সমাধানের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
রোববার (২৫ অক্টোবর) হংকং সফরকালে প্রবাসী বাংলাদেশি, ব্যবসায়ী সমাজ ও বিএনপির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশ কনস্যুলেটে ‘সুন্দরবন লাউঞ্জ’ উদ্বোধন করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বনভূমি সংরক্ষণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে সবুজ অর্থায়ন ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হবে।
সরকারের পরিবেশ সংরক্ষণ কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি জানান, দেশে প্রায় ৩ কোটি ৫৪ লাখ বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে। রোপিত গাছের পরিচর্যা ও সুরক্ষার পাশাপাশি পাহাড় কাটা ও বনভূমি দখল বন্ধ এবং দখল হওয়া বনভূমি উদ্ধারে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বুড়িগঙ্গা, তুরাগ ও ধলেশ্বরী নদীর দূষণ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ৪২৪টি পয়েন্ট থেকে এসব নদীতে দূষণ হচ্ছে। নদীদূষণ রোধের পাশাপাশি ইটের বিকল্প হিসেবে কংক্রিট ব্লকের ব্যবহার বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। এ ছাড়া কার্বন ক্রেডিট ও প্রকৃতিনির্ভর সমাধানের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় মোংলা বন্দরের ব্যবসায়িক সক্ষমতা বৃদ্ধি, সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণ, সবুজ অর্থায়ন ও রেমিট্যান্স বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র, নোয়াখালীতে ভূমিহীনদের বসতি, বন বিভাগের জমিসংক্রান্ত সমস্যা এবং সদরঘাটের পরিচ্ছন্নতার বিষয়ও আলোচনায় আসে।
প্রতিমন্ত্রী হংকংয়ে ‘ইকো এক্সপো এশিয়া ২০২৬’ ও ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড গ্রিন ইনোভেশন কনফারেন্স’-এ অংশ নেবেন। সফরে চীনের হুনান প্রদেশে সবুজ প্রযুক্তিবিষয়ক ফোরামে অংশগ্রহণ এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা পরিদর্শনের কর্মসূচিও রয়েছে।
এ সময় হংকংয়ে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল ড. শাহ মোহাম্মদ তানভীর মনসুর, কনস্যুলেটের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


