
শ্রীলঙ্কা নারী দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ভেন্যু হিসেবে নাম লেখাল রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়াম। ঐতিহাসিক এই ম্যাচ রাজশাহীবাসীকে জয় উপহার দিলেন নিগার সুলতানা জ্যোতিরা। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে গতকাল ৩ উইকেটে জিতেছেন বাংলাদেশের মেয়েরা।
২০৬ রানের লক্ষ্য তাড়ায় দুঃস্বপ্নের শুরুই হয়েছিল বাংলাদেশের। প্রথম ওভারে শারমিন সুলতানা (০) এবং দ্বিতীয় ওভারে জুয়াইরিয়া ফেরদৌসকে (৫) হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। শুরুর এই জোড়া ধাক্কা সামলানোর আগেই লঙ্কানদের তৃতীয় শিকারে পরিণত হন স্বাগতিক অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি (১৩)। ৩৪ রানে ৩ উইকেট গায়েব বাংলাদেশের।
এরপর অবশ্য উইকেটে দারুণ একটা পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন শারমিন আক্তার ও সোবহানা মোস্তারি। ১০২ বলে ৭৮ রান করেন তাঁরা। ৪১ রান করে মোস্তারি আহত (অবসর) হয়ে মাঠ ছাড়লে শারমিনের সঙ্গে জুটি বাঁধেন স্বর্ণা আক্তার। পঞ্চম উইকেটে ১০২ বলে ৭৮ রান যোগ করেন তাঁরা। শারমিন আক্তারের বিদায়ে ভাঙে এই জুটি। আউট হওয়ার আগে ১৩টি চারে ১২৭ বলে ইনিংস সর্বোচ্চ ৮৬ রান করেন তিনি।
এরপর ‘মিনি’ মোড়ক লাগে বাংলাদেশ ইনিংসে। ১৯৯ থেকে আর ১ রান যোগ করতে ৪ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এই মড়ক শুরুর আগেই বাংলাদেশ দল জয়ের বন্দরের খুব কাছে চলে আসায় তা দলকে লক্ষ্যচ্যুত করতে পারেনি। ৩ উইকেট ও ৯ বল হাতে রেখেই জিতে যায় বাংলাদেশ।
এর আগে প্রথমে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ২০৫ রান তোলে শ্রীলঙ্কা। শুরুটা দুর্দান্তই হয়েছিল লঙ্কান মেয়েদের। চামারি আত্তাপাত্তুর অনুপস্থিতিতে সফরকারী দলকে নেতৃত্ব দেওয়া হাসিনি পেরেরাকে সঙ্গে নিয়ে ৬৮ রানের জুটি গড়েন। রিতু মনির দারুণ এক ডেলিভারিতে পেরেরা এলবিডব্লিউ হয়ে গেলে ভাঙে এই জুটি। কিছু সময় পর তাঁকে অনুসরণ করেন ওয়ান ডাউনে উইকেটে আসা হার্ষিতা সামারাবিক্রমা (২)। এরপর উইকেটে ইমেশা দুলানি ও হানসিমা করুনারত্নের প্রতিরোধ। তৃতীয় উইকেটে ৮২ বলে ৫২ রান যোগ করেন তাঁরা।
৬টি চারে ৭৭ বলে ৫২ রান করা দুলানির বিদায়ে ভাঙে এই জুটি। পরে হানসিমা করুনারত্নেও ফিফটি করেন। ৬টি চারে ৭১ বলে ৫৪ রান করেন তিনি। সুলতানার বলে দুলানি যখন আউট হন, লঙ্কান মেয়েদের স্কোর তখন—১৬০/৪। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় তারা। তবে ৯ উইকেটে পুরো ৫০ ওভার খেললেও ২০৫ রানের বেশি তুলতে পারেনি সফরকারী দল।
বল হাতে সবচেয়ে সফর রিতু মনি; ৩৬ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট। ৩৮ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন নাহিদা আক্তার।
সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে ২৫ এপ্রিল। ভেন্যু একই—রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়াম।


