
বাংলাদেশের প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ শিক্ষার্থীর শিক্ষার মানোন্নয়নে ৩০ কোটি মার্কিন ডলার অর্থায়ন অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক।
‘লার্নিং এনহ্যান্সমেন্ট অ্যান্ড অ্যাক্সিলারেশন ইন প্রাইমারি এডুকেশন’ কর্মসূচির আওতায় শিশুদের পঠন, লিখন ও গণিতের মৌলিক দক্ষতা বাড়ানো হবে। এটি সরকারের পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
বিশ্বব্যাংক জানায়, বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষায় প্রায় সর্বজনীন প্রবেশাধিকার থাকলেও শিক্ষার মান এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। দেশে ১০ বছর বয়সী প্রায় ৫০ শতাংশ শিশু বয়সোপযোগী সহজ পাঠ বুঝতে পারে না।
কর্মসূচির আওতায় শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, শ্রেণিকক্ষে মানসম্মত পাঠদান সামগ্রী ও কাঠামোবদ্ধ পাঠ পরিকল্পনা দেওয়া হবে। পাশাপাশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৯০ শতাংশ প্রধান শিক্ষককে নেতৃত্ববিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ শিখন সহায়তাও থাকবে।
বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যাঁ পেসমে বলেন, মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা দক্ষ কর্মীবাহিনী গড়ে তোলার ভিত্তি। নতুন অর্থায়ন শিশুদের শেখার দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে সহায়তা করবে।
বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র এডুকেশন স্পেশালিস্ট ও টিম লিডার তাশমিনা রহমান বলেন, পিছিয়ে থাকা জেলাগুলোতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করা হবে। এতে শিক্ষক ও বিদ্যালয় নেতৃত্বের দক্ষতা বৃদ্ধি, বাজেটের স্বচ্ছতা এবং তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা মিলবে।
বিশ্বব্যাংক গ্রুপের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) এই অর্থায়ন দিচ্ছে। ২৫ বছর মেয়াদি ঋণটির ক্ষেত্রে পাঁচ বছর গ্রেস পিরিয়ড সুবিধা পাবে বাংলাদেশ।


