সব কিছু
facebook channelkhulna.tv
খুলনা , ,
‘বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্র হতে দেওয়া যাবে না’: ৭ নভেম্বরের অঙ্গীকার তারেক রহমানের | চ্যানেল খুলনা

‘বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্র হতে দেওয়া যাবে না’: ৭ নভেম্বরের অঙ্গীকার তারেক রহমানের

ভবিষ্যতে কেউ যেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার হরণ করে দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, সে জন্য জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার হওয়া উচিত দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জনগণের অধিকার সমুন্নত রাখা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের আর্থসামাজিক, ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করতে হলে সিপাহী-জনতার বিপ্লবের চেতনা ধারণ করতে হবে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লব, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান—প্রতিটি ঐতিহাসিক ঘটনা প্রমাণ করে, জাতীয় স্বার্থ ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে বাংলাদেশের মানুষ কখনো আপস করেনি। সবকিছুর ঊর্ধ্বে তাদের কাছে বাংলাদেশ।

৭ নভেম্বরকে দেশপ্রেমিক, স্বাধীনতাপ্রিয় ও গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ দিন হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহী-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছিল।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র তীব্র হয়ে ওঠে। এর ধারাবাহিকতায় ৩ নভেম্বর দিবাগত রাতে তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানকে সপরিবারে গৃহবন্দি করা হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের স্বার্থবিরোধী সেই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সিপাহী-জনতা ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যারা বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে, জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে এবং সশস্ত্র বাহিনীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতে চেয়েছিল, ৭ নভেম্বরের বিপ্লবের মধ্য দিয়ে তাদের পরাজয় ঘটে।

তবে তাঁর দাবি, পরবর্তী সময়ে সেই অপশক্তি আবার সংগঠিত হয়ে দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করে। পিলখানায় পরিকল্পিত সেনা হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা হয় এবং জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়ে ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়।

তারেক রহমান বলেন, হাজারো মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সেই অপশক্তির পরাজয় ঘটে। ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলনে হতাহত এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের লড়াই, আর ২০২৪ সাল ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রাম। তাঁর মতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যেভাবে সর্বস্তরের মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরও সিপাহী-জনতা একইভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছিল।

তিনি বলেন, সময়ের পরিক্রমায় ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, বাংলাদেশ যখনই ৭ নভেম্বরের চেতনা থেকে বিচ্যুত হয়েছে, তখনই দেশের স্বাধীনতা ও জনগণের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়েছে।

জাতীয় পরিচয়ের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায় নির্বিশেষে দেশের সব নাগরিকের পরিচয় বাংলাদেশি। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কিংবা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ—সবার পরিচয় এক, তাঁরা বাংলাদেশি। এই পরিচয়ই জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে। ৭ নভেম্বর বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় করেছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে তিনি যেমন রণাঙ্গনে লড়াই করেছিলেন, তেমনি ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরও দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।

তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি জাতির ইতিহাস শুধু অতীত স্মরণ করার বিষয় নয়; সঠিক ইতিহাস আত্মপরিচয়, আত্মমর্যাদা ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রেরণা জোগায়। এবারের আয়োজনে হাজার হাজার কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণী ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, নতুন প্রজন্ম ৭ নভেম্বরের প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকলে বাংলাদেশ পথ হারাবে না। তরুণদের জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি স্বাধীনতার মূলমন্ত্র ধারণ করে নিরাপদ, সমৃদ্ধ, মানবিক ও মর্যাদাপূর্ণ দেশ গঠনে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

তরুণদের সম্ভাবনা বিকাশে উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নির্মাণে অঙ্গীকারবদ্ধ।

দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক দিনে সবার কণ্ঠে উচ্চারিত হোক—‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কেউ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬ উদযাপন কমিটি, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), বাংলাদেশ স্কাউটস এবং দেশের জনগণকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরে দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনী উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় এবং সশস্ত্র বাহিনীর তত্ত্বাবধানে আয়োজিত প্রদর্শনীতে বিএনসিসির ৩ হাজার ক্যাডেট এবং বাংলাদেশ স্কাউটসের ৫০০ সদস্য অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধি, তিন বাহিনীর প্রধান, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী, তরুণ, বিএনসিসি ও স্কাউটস সদস্যসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

https://www.channelkhulna.tv/wp-content/uploads/2021/09/add-space-ck.gif

প্রধানমন্ত্রী কর্নার আরও সংবাদ

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)-এর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

মোংলা বন্দর হবে দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক হাব: প্রধানমন্ত্রী

কুইক রেন্টালের নামে লুটপাটের পরিবর্তে সাশ্রয়ী উপায়ে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

পোশাক কারখানার উৎপাদন সচল ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা

জাপান সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

চ্যানেল খুলনা মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন  
সম্পাদক: মো. হাসানুর রহমান তানজির
It’s An Sister Concern of Channel Khulna Media
© ২০১৮ - ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | চ্যানেল খুলনা.বাংলা, channelkhulna.com.bd, channelkhulna.com, channelkhulna.bd
যোগাযোগঃ ৫ কেডিএ বানিজ্যিক এলাকা, আপার যশোর রোড, খুলনা।
প্রধান কার্যালয়ঃ ৫২/১, রোড- ২১৭, খালিশপুর, খুলনা।
ফোন- 09696-408030, 01704-408030, ই-মেইল: channelkhulnatv@gmail.com
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদফতরে অনলাইন নিউজ পোর্টাল নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।