সব কিছু
facebook channelkhulna.tv
খুলনা , ,
মোংলা বন্দর হবে দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক হাব: প্রধানমন্ত্রী | চ্যানেল খুলনা

মোংলা বন্দর হবে দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক হাব: প্রধানমন্ত্রী

মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ করা হলে এটি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, মোংলাকে কেন্দ্র করে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও যশোরসহ আশপাশের জেলাগুলোতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।

একই সঙ্গে পঞ্চগড় থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ, বন্দরের সরবরাহব্যবস্থা এবং পণ্য পরিবহন সুবিধা উন্নয়নে সরকারের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে মোংলায় ‘মোংলা বন্দর সুবিধা সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণ এবং আনুষঙ্গিক অবকাঠামো উন্নয়নের এ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি। পরে বন্দরপ্রাঙ্গণে একটি গাছের চারাও রোপণ করেন।

তারেক রহমান বলেন, মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগ জোরদার করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও সম্প্রসারিত হবে। খানজাহান আলী বিমানবন্দরের উন্নয়ন কার্যক্রম চালু করাও সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জ্বালানি, সার, খাদ্যশস্য ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানি এবং দেশীয় পণ্য রপ্তানিতে মোংলা বন্দর পরিপূরক ভূমিকা রাখতে পারে। এর মাধ্যমে জাতীয় অর্থনৈতিক নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।

তিনি জানান, আধুনিক কনটেইনার টার্মিনাল, ইয়ার্ড ও কার্গো হ্যান্ডলিং সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে প্রকল্পের আওতায়। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হলে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র বদলে যাওয়ার পাশাপাশি সারা দেশের জন্য নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তৈরি হবে।

তবে প্রকল্পের সাফল্য শুধু নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার ওপর নির্ভর করবে না বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, বন্দরসেবার মান কতটা বাড়ল, পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় কতটা কমল, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান কতটা বাড়ল এবং পরিবেশ কতটা সুরক্ষিত থাকল—এসব বিষয় দিয়েই প্রকৃত অগ্রগতি মূল্যায়ন করতে হবে।

পরিবেশ সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তারেক রহমান বলেন, বন্দর পরিচালনায় পরিবেশবান্ধব সেবা, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং জাহাজের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিবেশ ও নিরাপত্তার মানদণ্ড অনুসরণ, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। বিপজ্জনক কার্যক্রম মোকাবিলায় অগ্নিনিরাপত্তা, প্রশিক্ষিত জনবল ও জরুরি পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সক্ষমতা গড়ে তোলার কথাও বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্য অর্জনে বিনিয়োগ, শিল্পায়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

দেশের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জনে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। তারেক রহমান বলেন, বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ, সহজ সেবা প্রক্রিয়া, নির্ভরযোগ্য অবকাঠামো এবং নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যে পৌঁছানোর পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বন্দরের নাব্যতা, নৌ চ্যানেলের নির্ভরযোগ্যতা এবং জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোর কাছে মোংলা বন্দরকে আকর্ষণীয় করে তোলার পাশাপাশি উপযুক্ত বাণিজ্যিক ও পরিচালনাগত শর্তে এটিকে ফার্স্ট কলিং পোর্ট হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলেন তিনি।

মোংলা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে নতুন কারখানা স্থাপনের জন্য দ্রুত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ শুরু করেছে বলেও জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, একসময় খুলনা ও আশপাশের এলাকায় অনেক মিল-কারখানা ছিল। সরকার এ অঞ্চলের হারিয়ে যাওয়া শিল্পঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে চায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ উদ্যোগ দেশের শিল্প-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করবে। বিশেষ করে তরুণদের কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে আস্থা এবং আঞ্চলিক সুষম উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশের অবকাঠামো ও উন্নয়নে অব্যাহত সহযোগিতার জন্য চীন সরকারকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকার কমলাপুর ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো (আইসিডি) থেকে কনটেইনারবাহী ট্রেন সরাসরি মোংলা বন্দরে চলাচল করতে পারবে। এতে বন্দরের পণ্য পরিবহন সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সম্প্রসারিত হবে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন যোগাযোগমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা এবং চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের চেয়ারম্যান দাই হেগেন।

এ সময় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: বাসস

https://www.channelkhulna.tv/wp-content/uploads/2021/09/add-space-ck.gif

প্রধানমন্ত্রী কর্নার আরও সংবাদ

কুইক রেন্টালের নামে লুটপাটের পরিবর্তে সাশ্রয়ী উপায়ে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

পোশাক কারখানার উৎপাদন সচল ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা

জাপান সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাপান সফর শেষে ঢাকার পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বাংলাদেশ-জাপান ছয় সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর, ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলার ঋণ প্রতিশ্রুতি

চ্যানেল খুলনা মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন  
সম্পাদক: মো. হাসানুর রহমান তানজির
It’s An Sister Concern of Channel Khulna Media
© ২০১৮ - ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | চ্যানেল খুলনা.বাংলা, channelkhulna.com.bd, channelkhulna.com, channelkhulna.bd
যোগাযোগঃ ৫ কেডিএ বানিজ্যিক এলাকা, আপার যশোর রোড, খুলনা।
প্রধান কার্যালয়ঃ ৫২/১, রোড- ২১৭, খালিশপুর, খুলনা।
ফোন- 09696-408030, 01704-408030, ই-মেইল: channelkhulnatv@gmail.com
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদফতরে অনলাইন নিউজ পোর্টাল নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।