
দুই-একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে গোটা ওলামা সমাজ ও মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয় বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি মিলনায়তনে আয়োজিত জাতীয় মুফাসসির সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘সাদা কাপড়ে দাগ বেশি লাগে। যাদের চরিত্র কালো, ওখান থেকে কিছুই খুঁজে পাবেন না। কিন্তু যার চরিত্র ভালো, ওখানে একটু হালকা দাগ লাগলে দেখা যাবে।’
সম্মেলনে উপস্থিত আলেমদের নিজেদের চরিত্র ও আমলের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। শফিকুর রহমান বলেন, ‘দুই-একটা অঘটনের কারণে গোটা ওলামা সমাজকে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়, মাদ্রাসার শিক্ষা ব্যবস্থাকে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়।’
তাফসিরের মঞ্চে বক্তব্য দেওয়ার আগে নিজের আমল ও বক্তব্যের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখার ওপর গুরুত্ব দেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, কোন কথা বললে তা নিজের আমলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, তা আগে ঠিক করতে হবে। নিজে যে আমল করেন না, এমন কোনো কথা—ভালো হলেও—অন্যকে বলার আগে নিজে তা পালন করার আহ্বান জানান তিনি।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দেশের মানুষ নানা দিক থেকে কষ্টের মধ্যে রয়েছে। শুধু খাদ্য ও পোশাকের সংকট নয়, মানুষের ইজ্জত ও জীবনের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। কে কখন কোথায় হারিয়ে যাবে কিংবা কে অপমানের শিকার হবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ অবস্থায় আলেমদের জাতিকে পথ দেখানোর ‘রাহাবার’ হিসেবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান শফিকুর রহমান।
সম্প্রতি জাতীয় সংসদে কোরআন-সুন্নাহর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হয়—এমন একটি আইন পাস হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ বিষয়ে আলেমদের ‘দায় ও দরদ’—দুই বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে কথা বলার আহ্বান জানান জামায়াত আমির।
তিনি বলেন, মানুষ ভুল করতে পারে; ব্যক্তি পর্যায়েও ভুল হতে পারে, আবার সামষ্টিকভাবেও ভুল হতে পারে। তাই সংশোধনের সুযোগ রেখে সমালোচনা করার পরামর্শ দেন তিনি।


