
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের রাজধানী পেশোয়ারের আফ্রিদি আবাদ এলাকায় একটি বেসরকারি স্কুলের ছাদ ধসে ২৭ শিক্ষার্থী ও এক শিক্ষক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১৯ জন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) আল খায়ের স্কুলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। লেডি রিডিং হাসপাতালের মুখপাত্র মুহাম্মদ আসিম সংবাদমাধ্যম ডনকে হতাহতের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহত শিক্ষার্থীদের বয়স ৭ থেকে ১২ বছরের মধ্যে। তাঁদের মধ্যে ১৮ জন ছেলে ও দুজন মেয়ে নিহত হওয়ার তথ্যও এর আগে জানিয়েছিলেন তিনি। দুর্ঘটনার পর হাসপাতালে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়।
পেশোয়ারের ডেপুটি কমিশনার আফাক ওয়াজির জানান, শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে থাকা অবস্থায় স্কুলের ছাদ ধসে পড়ে। এতে অনেকে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে তাদের উদ্ধারে কাজ করেন। পরে তিনি জানান, ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শেষ হয়েছে এবং ঘটনাস্থলে আর কোনো আহত শিশু নেই।
দুর্ঘটনায় শিশুদের প্রাণহানিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন খাইবার পাখতুনখোয়ার গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্ডি। তিনি ঘটনার বিস্তারিত প্রতিবেদন চেয়েছেন এবং ছাদ ধসে পড়ার কারণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, নিরপরাধ শিশুদের প্রাণহানি অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
স্কুলের ছাদ ধসের খবর পেয়ে সন্তানদের খোঁজে ঘটনাস্থলে ছুটে যান অভিভাবক সামিউল্লাহ। ডনকে তিনি বলেন, সকাল ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে ফোন পেয়ে ১০ মিনিটের মধ্যে সেখানে পৌঁছান। তিনি আট বছরের কম বয়সী তিনটি মেয়েশিশুকে উদ্ধার করেছেন। তাঁর ছয় সন্তান ওই স্কুলে পড়ে।
সামিউল্লাহ বলেন, প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন তাঁর ছেলেও মারা গেছে। ছেলেটি নিচতলায় পড়ত, আর তার শ্রেণিকক্ষের ঠিক ওপরের তলা ধসে পড়েছিল। তবে ঘটনার সময় পানি পান করতে শ্রেণিকক্ষের বাইরে থাকায় ছেলেটি বেঁচে যায়।
উল্লেখ্য, খাইবার পাখতুনখোয়া পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় একটি প্রদেশ। গত রোববার কেন্দ্রীয় সরকার এ প্রদেশে গভর্নরের শাসন ও জরুরি অবস্থা জারি করে।


