সব কিছু
facebook channelkhulna.tv
খুলনা , ,
ম্যানিলায় বড় পরীক্ষার মুখে জলবায়ু ক্ষয়ক্ষতি তহবিল | চ্যানেল খুলনা

ম্যানিলায় বড় পরীক্ষার মুখে জলবায়ু ক্ষয়ক্ষতি তহবিল

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড’ (ক্ষয়ক্ষতি তহবিল) এখন বড় ধরনের অর্থ সংকটের মুখে পড়েছে। বিশ্বের জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জমা দেওয়া প্রকল্প বাস্তবায়নে যেখানে প্রয়োজন প্রায় ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, সেখানে তহবিলে বর্তমানে রয়েছে মাত্র ২৫০ মিলিয়ন ডলার। ফলে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর কাছে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়া নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় বুধবার শুরু হয়েছে জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন কাঠামো কনভেনশনের (ইউএনএফসিসিসি) আওতায় গঠিত ক্ষয়ক্ষতি তহবিলের নবম বোর্ড সভা। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী এই সভায় জলবায়ু বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য অর্থায়নের কার্যকর কাঠামো নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। সভা শুক্রবার শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

তহবিল সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ১১৮টি দেশ থেকে জমা পড়া ১৯৮টি প্রকল্পের মধ্যে ১৭৬টি প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজন প্রায় ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু বর্তমানে তহবিলে রয়েছে মাত্র ২৫০ মিলিয়ন ডলার, যা মোট চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল।

প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে আফ্রিকা অঞ্চল থেকে ৮১টি, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে ৪৯টি, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে ৪২টি এবং পূর্ব ইউরোপ থেকে চারটি প্রকল্প রয়েছে।

বাংলাদেশও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর অন্যতম। উত্তরাঞ্চলের বন্যা, নদীভাঙন, জলবায়ু-প্ররোচিত বাস্তুচ্যুতি, উপকূলীয় লবণাক্ততা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনের জন্য বাংলাদেশ জরুরি আর্থিক সহায়তা চেয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশসহ জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো দাবি জানিয়ে আসছে, ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলার অর্থায়ন ঋণ হিসেবে নয়, বরং উন্নত দেশগুলোর ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতার ভিত্তিতে অনুদান হিসেবে দিতে হবে।

এদিকে ২০২৬ সালে আঞ্চলিক জলবায়ু জোটের নেতৃত্বে থাকা ফিলিপাইনের পরিবেশ সচিব জুয়ান মিগুয়েল টি. কুনা বলেছেন, এখন আর শুধু আলোচনার সময় নয়, কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এসেছে। তিনি জানান, ফিলিপাইনের ‘অ্যালন’ প্রকল্পের মাধ্যমে উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার, জীবিকা সুরক্ষা এবং জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধির উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

ম্যানিলায় বৈঠক চলাকালে বাংলাদেশে জলবায়ু ঝুঁকির আরেকটি করুণ চিত্রও সামনে এসেছে। কক্সবাজারের একটি রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে প্রবল বর্ষণে পাহাড়ধসে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে সাতজন ছাত্রী ও একজন শিক্ষক নিহত হন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনা প্রমাণ করে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য দীর্ঘমেয়াদি অভিযোজন, নিরাপদ অবকাঠামো এবং ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত অর্থায়ন কতটা জরুরি।

জলবায়ু অর্থায়নের জবাবদিহিতা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে কাজ করা ‘ফিল দ্য ফান্ড’ প্রচারণার আহ্বায়ক হরজিৎ সিং বলেন, বর্তমান বৈঠকে তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ সামনে রয়েছে—অর্থায়নের পরিমাণ বৃদ্ধি, দ্রুত অর্থ বিতরণ এবং প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।

তার ভাষ্য, বর্তমানে যে অর্থ প্রতিশ্রুতি রয়েছে তা জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রকৃত চাহিদার তুলনায় নগণ্য। একই সঙ্গে ২০২২ সালে মিশরের শারম আল-শেখে তহবিল প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত হলেও সাড়ে তিন বছর পরও অর্থ বিতরণ কার্যক্রম শুরু না হওয়াকে তিনি উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, অর্থ যেন আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে না থেকে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ, স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও সিভিল সোসাইটি সংগঠনের কাছে পৌঁছায়, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ইয়ুথনেট গ্লোবালের নির্বাহী সমন্বয়কারী সোহানুর রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার দেশগুলোর ওপর নতুন ঋণের বোঝা চাপানো যাবে না। অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি অর্থ বিতরণে গতি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, তহবিলের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে মাঠপর্যায়ের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে এর সুফল কতটা দ্রুত পৌঁছায় তার ওপর।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্ষয়ক্ষতি তহবিলের ভবিষ্যৎ শুধু অর্থ সংগ্রহের ওপর নির্ভর করছে না; বরং সেই অর্থ কত দ্রুত, কতটা স্বচ্ছভাবে এবং প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে পৌঁছানো যায়, সেটিই হবে সাফল্যের মূল সূচক।

শুক্রবার পর্যন্ত চলা বোর্ড সভায় তহবিলের কার্যক্রম মূল্যায়নের কাঠামো, দেশভিত্তিক অর্থ সহায়তা ব্যবস্থা এবং অর্থ বিতরণের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে। জলবায়ু বিশ্লেষকদের মতে, ম্যানিলার এই বৈঠকের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে, ক্ষয়ক্ষতি তহবিল বৈশ্বিক জলবায়ু সংহতির কার্যকর উদাহরণ হবে, নাকি অর্থ সংকট ও প্রশাসনিক জটিলতায় আটকে থাকা আরেকটি অপূর্ণ প্রতিশ্রুতিতে পরিণত হবে।

https://www.channelkhulna.tv/wp-content/uploads/2021/09/add-space-ck.gif

পরিবেশ ও জলবায়ু আরও সংবাদ

অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জলবায়ু সহনশীল নগর উন্নয়নে বাংলাদেশের অঙ্গীকার

বায়ুদূষণে প্রতিদিন ঝরে ২৪২ প্রাণ

ম্যানিলায় বড় পরীক্ষার মুখে জলবায়ু ক্ষয়ক্ষতি তহবিল

জলবায়ু পরিবর্তন ও ফুলের সংকটে বিপর্যস্ত মৌয়ালরা; বাড়ছে ভেজাল মধুর দৌরাত্ম্য

জাতীয় পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন কমিটির ২৬ সদস্যের নির্বাহী কমিটি গঠন

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ৪০ সদস্যের এনসিইসিসি কমিটি

চ্যানেল খুলনা মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন  
সম্পাদক: মো. হাসানুর রহমান তানজির
It’s An Sister Concern of Channel Khulna Media
© ২০১৮ - ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | চ্যানেল খুলনা.বাংলা, channelkhulna.com.bd, channelkhulna.bd
যোগাযোগঃ ৫ কেডিএ বানিজ্যিক এলাকা, আপার যশোর রোড, খুলনা।
প্রধান কার্যালয়ঃ ৫২/১, রোড- ২১৭, খালিশপুর, খুলনা।
ফোন- 09696-408030, 01704-408030, ই-মেইল: channelkhulnatv@gmail.com
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদফতরে অনলাইন নিউজ পোর্টাল নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।