
দীর্ঘদিন বিএনপি জোটের সঙ্গে আন্দোলন সংগ্রামে থাকা এবং একাধিকবার কারাবরণের মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে পরীক্ষিত নেতা হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ বর্তমান সরকারের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে পার্থ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে ভোলায় তার দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান অনেকে। পরে বিভিন্ন এলাকায় আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক মোতাছিন বিল্লাহ বলেন, তাদের দলের চেয়ারম্যানের মন্ত্রিত্ব পাওয়ার বিষয়টি আগে থেকেই প্রত্যাশিত ছিল। পার্থ মন্ত্রী হওয়ায় ভোলার মানুষ আনন্দিত।
ভোলার উন্নয়ন নিয়ে প্রত্যাশা
ভোলা-১ আসন থেকে নিজ দলের প্রতীকে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন পার্থ। নির্বাচনের আগে তিনি ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ, সরকারি মেডিকেল কলেজ ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং ভোলার গ্যাস ব্যবহার করে শিল্পায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
এ ছাড়া বরিশালের নির্বাচনী জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্ষমতায় গেলে ভোলায় মেডিকেল কলেজ ও সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান।
পার্থের মন্ত্রী হওয়ার মধ্য দিয়ে এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে ওঠা
আন্দালিভ রহমান পার্থের জন্ম ১৯৭৪ সালের ২০ এপ্রিল। তার বাবা বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান নাজিউর রহমান মঞ্জু ছিলেন মন্ত্রী ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র। মা রেবা রহমান সমাজসেবার সঙ্গে যুক্ত।
ভোলা জেলা সদরের উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নের বালিয়া তালুকদার বাড়িতে পার্থের গ্রামের বাড়ি। স্থানীয়ভাবে পরিবারটি ঐতিহ্যবাহী পরিবার হিসেবে পরিচিত।
২০০৮ সালের ৬ এপ্রিল বাবার মৃত্যুর পর বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন পার্থ। একই বছর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-১ আসন থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। পরবর্তী সময়ে টেলিভিশনের বিভিন্ন আলোচনা অনুষ্ঠানে নিয়মিত উপস্থিতির কারণে তরুণদের মধ্যেও পরিচিতি পান।
শিক্ষাজীবন ও পেশা
পার্থ সেন্ট যোসেফ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরে লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে বার অ্যাট ল ডিগ্রি অর্জন করেন।
শিক্ষাজীবন শেষে ঢাকায় আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে ব্রিটিশ স্কুল অব ল কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন এবং প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন।
রাজনীতিতে পথচলা
২০০০ সালে বাবা নাজিউর রহমান মঞ্জুর হাত ধরে রাজনীতিতে যুক্ত হন পার্থ। ২০০৫ সালে ভোলা ও পটুয়াখালী জেলার বিএনপি আয়োজিত একটি রাজনৈতিক প্রতিনিধি সম্মেলনে বাবার পক্ষে শুভেচ্ছাবাণী পাঠের মধ্য দিয়ে বিএনপি জোটের রাজনীতিতে তার সক্রিয় উপস্থিতি শুরু হয় বলে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন।
২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা অ্যাডভোকেট ইউছুফ হোসেন হুমায়ুনকে পরাজিত করে ভোলা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন পার্থ।
২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সংস্থাপন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি। ২০১৪ সালে তার দল বিএনপি জোটের সঙ্গে আন্দোলনে থেকে জাতীয় নির্বাচন বর্জন করে।
২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন পার্থ। পরে দলীয় সিদ্ধান্তে ভোলা-১ আসনে প্রার্থী হন এবং ওই আসন থেকে নির্বাচিত হন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, আন্দোলন সংগ্রাম এবং দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকার পর এবার সরকারের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেলেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ। তার মন্ত্রিত্বকে ঘিরে ভোলায় এখন উন্নয়ন ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।


