
রাজধানীতে জ্বালানি তেলের সংকটে গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত যানচালকদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও পর্যাপ্ত তেল না পাওয়ার অভিযোগের মধ্যেই সরকারি তথ্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর আসাদগেট এলাকার একটি পেট্রোল পাম্প পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে তেল সরবরাহ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বলা হলেও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে।
তিনি জানান, পাম্পে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা চালক ও মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একটি গাড়িকে একবারে সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে। মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে কোথাও ৫০০ টাকা, কোথাও ১৫০ থেকে ২০০ টাকার বেশি তেল মিলছে না।
পাম্প কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আগে প্রতিদিন যেখানে তিন গাড়ি তেল সরবরাহ হতো, এখন দেওয়া হচ্ছে মাত্র এক গাড়ি। এতে ২৪ ঘণ্টার চাহিদা পূরণ সম্ভব হচ্ছে না।
তার ভাষায়, যখন সরবরাহ আগের এক তৃতীয়াংশ, তখন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বিক্রির দাবি বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না।
ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, জাতীয় সংসদে প্রকৃত পরিস্থিতি তুলে ধরা না হলে তা জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক। তিনি বলেন, জনগণকে বাস্তব অবস্থা জানিয়ে সংকট মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, তেল সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবিকায়। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহকারীদের দৈনিক আয় দেড় হাজার টাকা থেকে নেমে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
একই সঙ্গে জ্বালানি সংকট ও বাড়তি পরিবহন ব্যয়ের কারণে নিত্যপণ্যের বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিশ্ব পরিস্থিতি ও যুদ্ধের কারণে এ সংকট তৈরি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন জামায়াত আমির। তবে এ বিষয়ে সরকারকে স্বচ্ছতা বজায় রেখে সঠিক তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানান তিনি।


