খুলনা মহানগরীর ৩১টি ওয়ার্ডের গৃহস্থালির বর্জ্য এখন আর পরিবেশের বোঝা নয়, সেই বর্জ্যই পরিণত হবে সম্পদে। পচনশীল বর্জ্য থেকে তৈরি হবে জৈব সার, প্লাস্টিক থেকে জ্বালানি তেল, কাঁচাবাজারের বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস এবং সেই গ্যাস থেকে উৎপাদিত হবে বিদ্যুৎ।
খুলনার ডুমুরিয়ার শলুয়া ল্যান্ডফিলে প্রায় ৫৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে দেশের প্রথম সমন্বিত বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র। পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরুর পর এখন পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনের প্রস্তুতি চলছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের লক্ষ্য, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে কেন্দ্রটি পুরোপুরি চালু করা।
খুলনা সিটি করপোরেশন-কেসিসি ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে হয়েছে ‘ইন্টিগ্রেটেড ল্যান্ডফিল অ্যান্ড রিসোর্স রিকভারি ফ্যাসিলিটি’।
১৭ একর জমির ওপর নির্মিত ৫২ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পের তদারকিতে রয়েছে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বর্জ্যের ধরন অনুযায়ী আলাদা প্রযুক্তি ব্যবহার করে এখানে বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করা হবে। প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল তৈরিতে ব্যবহার করা হবে পাইরোলাইসিস প্রযুক্তি। নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় প্লাস্টিক উত্তপ্ত করে উৎপন্ন বাষ্প শীতল করে তরল তেল সংগ্রহ করা হবে।
পরবর্তী প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে এই তেল থেকে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলজাতীয় জ্বালানি উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রকল্পের প্রকৌশলী মেজবাউদ্দিন জানান, গৃহস্থালির পচনশীল বর্জ্য থেকে তৈরি হবে জৈব সার। কাঁচাবাজারের বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস এবং সেই গ্যাস ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। ফলে একদিকে নগরীর বর্জ্যের চাপ কমবে, অন্যদিকে একই বর্জ্য থেকে ব্যবহারযোগ্য পণ্য ও জ্বালানি পাওয়া যাবে।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে প্রতিদিন প্রায় ২০ টন জৈব সার, চার হাজার ৮০০ লিটার জ্বালানি তেল এবং ৪৫০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
উৎপাদিত বিদ্যুৎ ও তেল প্রথমে প্লান্টের নিজস্ব কাজে ব্যবহার করা হবে। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ এবং বাড়তি তেল বাজারে বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে।
কেসিসি সূত্রে জানা গেছে, খুলনা মহানগরীতে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার ২০০ টন গৃহস্থালিসহ বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য তৈরি হয়। এর মধ্যে প্রায় ৮০০ মে. টন সংগ্রহ করে কেসিসি। এত দিন সংগৃহীত বর্জ্যের বড় অংশ রাজবাঁধ ডাম্পিং গ্রাউন্ডে ফেলা হতো। শলুয়ার নতুন প্লান্ট চালু হলে নগরীর প্রায় ৩০ শতাংশ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে কেসিসি। এতে ডাম্পিংয়ের ওপর চাপ কমার পাশাপাশি বর্জ্যের পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপাদান কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হবে। কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘বর্জ্য এখন কোনো সংকট নয়, এটি বর্তমানে একটি বাণিজ্যিক খাতে পরিণত হয়েছে।’ আগামী ডিসেম্বরে শলুয়ার প্লান্ট চালু হলে নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন দিক উন্মোচিত হবে বলে তিনি মনে করেন।
তবে প্লান্টটি বেসরকারি খাতে পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হলে তারা সুষ্ঠুভাবে তা পরিচালনা করতে পারবে কি না, সেটিও বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। সঠিকভাবে পরিচালনা সম্ভব না হলে বিকল্প ব্যবস্থায় কিভাবে প্লান্টটি চালানো যায়, সে বিষয়ে কর্মকর্তা পর্যায়ে আরো সভা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


