
ত্রয়োদশ সংসদের সংরক্ষিত ৫০ নারী আসনের মধ্যে ৩৬টি আসন পাবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ মে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে বিএনপির নারী নেত্রীদের মধ্যে মনোনয়ন পাওয়ার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।
দলীয় সূত্র অনুযায়ী, বিএনপির অন্তত ১২০০ নারী নেত্রী সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য তৎপরতা চালাচ্ছেন। অনেকেই কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, আবার কেউ নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন। দলীয় নেতারা বলছেন, শেষ পর্যন্ত ত্যাগী, যোগ্য এবং সাংগঠনিকভাবে দক্ষ প্রার্থীদেরই মনোনয়ন দেওয়া হবে।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, আন্দোলন-সংগ্রামে যারা নির্যাতিত হয়েছেন, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি আইন প্রণয়ন সম্পর্কে ধারণা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং দলের প্রতি আনুগত্যও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
আরপিও অনুযায়ী, সংসদের সাধারণ আসনে দলীয় জয়ী আসনের অনুপাতে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়। এবার বিএনপি এককভাবে ২১৩টি আসনে জয়ী হওয়ায় তারা ৩৬টি সংরক্ষিত নারী আসন পাবে। অন্যদিকে, বিরোধী জোট ও অন্যান্য দল মিলে বাকি আসনগুলো পাবে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, খুব শিগগিরই মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হবে। এর আগেই প্রার্থীরা তদবির ও যোগাযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় সাবেক ও বর্তমান নেত্রী, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পরিচিত মুখ, আইনজীবী এবং তৃণমূল নেত্রীদের নাম আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি ছাত্ররাজনীতি ও পরিবারিক রাজনৈতিক পরিচিতি থাকা অনেকের নামও সামনে এসেছে।
দলীয় নেতারা বলছেন, এবার মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের চমক থাকতে পারে। অনেক ত্যাগী কিন্তু কম পরিচিত নেত্রী মনোনয়ন পেতে পারেন, আবার কিছু সিনিয়র নেত্রী বাদ পড়তে পারেন বলেও আলোচনা রয়েছে।
দলীয় কেন্দ্রীয় দপ্তরে ইতোমধ্যে প্রায় ১২০০ আবেদন জমা পড়েছে। চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণার আগে প্রার্থীরা নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।


