সব কিছু
facebook channelkhulna.tv
খুলনা , ,
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাঁচ দফা প্রস্তাব | চ্যানেল খুলনা

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাঁচ দফা প্রস্তাব

রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে পাঁচ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়ন, সহিংসতা বন্ধ, পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা নিশ্চিত, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

স্থানীয় সময় বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে রোহিঙ্গা সংকটবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব প্রস্তাব দেন। বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কয়েক দশক ধরে মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা বৈষম্য, নিপীড়ন ও বঞ্চনার মধ্যে রয়েছে। সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে হওয়ায় এর স্থায়ী সমাধানও সেখানেই নিহিত বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তারেক রহমানের প্রথম প্রস্তাব হলো—রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অংশীজনদের একটি বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে। মিয়ানমারে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সহায়তা করার পাশাপাশি নিজেদের প্রভাব কাজে লাগিয়ে প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানান তিনি।

দ্বিতীয় প্রস্তাবে তিনি রোহিঙ্গাসহ মিয়ানমারের বেসামরিক জনগণের ওপর সব ধরনের সহিংসতা অবিলম্বে বন্ধ এবং নিজভূমিতে রোহিঙ্গাদের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

তৃতীয়ত, রোহিঙ্গাদের জন্য পর্যাপ্ত ও পূর্বানুমেয় মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্যও আন্তর্জাতিক সহায়তা নিশ্চিত করার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার কারণে কক্সবাজারের স্থানীয় জনগণের উন্নয়ন যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

চতুর্থ প্রস্তাবে টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তারেক রহমান। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে গাম্বিয়ার ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিচার ও তদন্ত ব্যবস্থার মাধ্যমে গুরুতর অপরাধের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানান।

পঞ্চম প্রস্তাবে মাদকভিত্তিক অর্থনীতি, মানবপাচার, ডিজিটাল প্রতারণা, অবৈধ অস্ত্র ব্যবসাসহ আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা আশ্রয় দেওয়ার দীর্ঘ ইতিহাস তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭৮ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। ১৯৮০-এর দশকেও কয়েক দফায় তাদের আগমন ঘটে। বিভিন্ন সময়ে কিছু রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হলেও ২০১৭ সালে নতুন করে সহিংসতা শুরু হলে পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নয় বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। বর্তমানে দেশে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। মিয়ানমারের চলমান সহিংসতার কারণে এখনো নতুন করে মানুষ বাংলাদেশে আসছে বলেও জানান তিনি।

শিবিরগুলোতে প্রতিবছর হাজার হাজার শিশুর জন্মের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতির সঙ্গে নতুন একটি প্রজন্মও যুক্ত হচ্ছে। রোহিঙ্গা তরুণদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ছে এবং প্রবীণরা নিজেদের বাড়িঘরে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন।

বাংলাদেশ মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, শিবিরগুলোতে খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। প্রায় ৬ হাজার লার্নিং সেন্টারের মাধ্যমে রোহিঙ্গা শিশুদের মিয়ানমারের পাঠ্যক্রম অনুযায়ী শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে ভবিষ্যতে রাখাইন রাজ্যে পুনঃএকীভূত হওয়ার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।

তবে দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের ওপর সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এর প্রভাব কক্সবাজারের স্থানীয় আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর ওপরও পড়ছে।

দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা থেকে মানবপাচার, মাদকপাচার, অবৈধ অভিবাসী পাচারসহ বিভিন্ন আন্তঃদেশীয় অপরাধ বাড়ার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেন তিনি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রোহিঙ্গাদের নৌপথে মালয়েশিয়ার দিকে যাওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তার মতে, একটি দেশে দীর্ঘদিন অমীমাংসিত থাকা এই সংকট পুরো অঞ্চলের জন্যই নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা কমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তারেক রহমান বলেন, ২০২৫ সালের যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনায় (জেআরপি) ৯৩৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি সহায়তার আবেদন করা হলেও ২০২৬ সালের জন্য তা কমিয়ে প্রায় ৭১০ মিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে। তার ভাষ্য, এই অর্থ দিয়ে কেবল ন্যূনতম জীবনরক্ষাকারী প্রয়োজন মেটানো সম্ভব।

‘এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে না’ উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন।

তারেক রহমান বলেন, মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার অর্থ এই নয় যে রাজনৈতিক সমাধানের উদ্যোগ থেমে থাকবে। অনির্দিষ্টকালের জন্য শুধু বাংলাদেশের ওপর রোহিঙ্গাদের দায়িত্বও চাপিয়ে রাখা যায় না। রোহিঙ্গা সংকটের মূল কারণ মিয়ানমারে এবং এর স্থায়ী সমাধানও মিয়ানমারেই করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গারা এখনো নির্বিচারে আটক, চলাচলে বিধিনিষেধ, জোরপূর্বক শ্রম ও নিরাপত্তাহীনতার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মি—উভয়ের বিরুদ্ধেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ কারণে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, শুধু সহমর্মিতা প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সংকটের মূল কারণ চিহ্নিত করে কার্যকর সমাধানের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনার পরিবর্তে বাস্তুচ্যুতির অবসান ঘটানোর উদ্যোগ নেওয়ার সময় এসেছে।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ চায় না রোহিঙ্গারা চিরস্থায়ীভাবে বাস্তুচ্যুত অবস্থায় থাকুক। তারা যেন নিজেদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে স্বেচ্ছায়, মর্যাদার সঙ্গে মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারে, বাংলাদেশ সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে। প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি তৈরি হলে প্রত্যাবাসনে সহায়তা করতেও বাংলাদেশ প্রস্তুত বলে জানান তিনি।

বৈঠকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, গাম্বিয়ার উপরাষ্ট্রপতি মুহাম্মদ বি. এস. জ্যালো এবং মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত জুলি বিশপ বক্তব্য দেন।

এ ছাড়া জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার হাইকমিশনার বারহাম সালিহ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কমিশনার হাদজা লাহবিব, সৌদি আরবের কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টারের সুপারভাইজার জেনারেল আবদুল্লাহ আবদুল আজিজ আল-রাবিয়াহ, যুক্তরাজ্য, তুরস্ক, ওআইসি, যুক্তরাষ্ট্র, থাইল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান।

https://www.channelkhulna.tv/wp-content/uploads/2021/09/add-space-ck.gif

প্রধানমন্ত্রী কর্নার আরও সংবাদ

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাঁচ দফা প্রস্তাব

নিউইয়র্কে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, সফরসঙ্গী ৩৫ জন

একনেকে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি টাকায় ১২ প্রকল্প অনুমোদন

নিহত দুই সেনাসদস্যের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তা

চলতি বছরেই ৪১ লাখ পরিবার পাবে ফ্যামিলি কার্ড: প্রধানমন্ত্রী

চ্যানেল খুলনা মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন  
সম্পাদক: মো. হাসানুর রহমান তানজির
It’s An Sister Concern of Channel Khulna Media
© ২০১৮ - ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | চ্যানেল খুলনা.বাংলা, channelkhulna.com.bd, channelkhulna.com, channelkhulna.bd
যোগাযোগঃ ৫ কেডিএ বানিজ্যিক এলাকা, আপার যশোর রোড, খুলনা।
প্রধান কার্যালয়ঃ ৫২/১, রোড- ২১৭, খালিশপুর, খুলনা।
ফোন- 09696-408030, 01704-408030, ই-মেইল: channelkhulnatv@gmail.com
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদফতরে অনলাইন নিউজ পোর্টাল নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।