
দেশের সব বন্দরকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে আনার কথা জানিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান। তিনি বলেছেন, বন্দর পরিচালনায় কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বরদাশত করা হবে না। প্রকৃত ব্যবসায়ী, আমদানিকারক, রপ্তানিকারক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে বন্দরের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) কোনো পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি বা প্রটোকল ছাড়াই বেনাপোল স্থলবন্দর পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী বন্দরের বিভিন্ন শেড ঘুরে দেখেন এবং পণ্য সংরক্ষণ ও খালাস কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজ নেন। পরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বন্দরের কার্যক্রম, বিদ্যমান সমস্যা ও উন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থলবন্দরসহ দেশের বিভিন্ন বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ রয়েছে। এর কারণে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা অনেক সময় স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন না। সরকার এ পরিস্থিতির পরিবর্তন করতে চায়।
তিনি বলেন, বন্দর কোনো রাজনৈতিক বলয়ের জায়গা নয়। দেশের অর্থনীতিতে বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমকে গতিশীল করতে বন্দরে স্বচ্ছ ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
ব্যবসায়ীরা যাতে নির্বিঘ্নে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে জানিয়ে রাজিব আহসান বলেন, শুধু অবকাঠামোর উন্নয়ন করলেই হবে না। বন্দরের সেবার মান, পণ্য খালাসের গতি, ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াতে হবে। ব্যবসায়ীরা যাতে দ্রুত ও হয়রানিমুক্তভাবে সেবা পান, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।
বন্দরের বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। কর্মকর্তাদের ব্যবসায়ী, আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী।
বেনাপোল বন্দরের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে এ স্থলবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সেবার মান বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
কর্মকর্তাদের উদ্দেশে নৌ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমস্যাগুলো গুরুত্ব দিয়ে শুনে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। কোনো অনিয়ম, প্রভাব বা স্বার্থের কারণে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বেনাপোল বন্দরের উন্নয়নের সঙ্গে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের বড় একটি অংশ জড়িত। বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো গেলে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি বন্দরের উন্নয়নে সরকারের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ স্থলবন্দর চেয়ারম্যান মানজারুল মান্নান, যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) মাসুম খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


