
ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডুতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তাকে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষরা। বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার ভায়না ইউনিয়নের কালীশংকপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মোনায়েম হোসেন ওরফে মোলাম (৫০) ভায়না ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এবং আওয়ামী লীগের ভায়না ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে কুষ্টিয়ার আব্দালপুরে খেলা দেখতে যান ইউপি সদস্য মোনায়েম হোসেন। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্থানীয় ভায়না বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। পথে কালীশংকরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে পৌঁছালে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তার ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাকে ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। এসময় তার চিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। রাত সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ভায়না ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আক্তার হোসেন বলেন, বিকেলে মোলাম হোসেন খেলা দেখতে আব্দালপুরে গিয়েছিলেন। রাতে বাজারের কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে স্কুলের উত্তর পাশে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তার ওপর হামলা চালায়। কুষ্টিয়া নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের স্ত্রী শিল্পী খাতুন বলেন, ‘আমার স্বামী বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। গ্রামের স্কুলের পিছনে তাকে মেরে ফেলেছে। আমার স্বামীর শরীরে ধারালো অস্ত্রের অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন আছে। আমি বিধবা হয়ে গেলাম। সন্তানরা এতিম হয়ে গেল। আমি এর বিচার চাই।’
একসময় চরমপন্থী দলের সঙ্গে মোনায়েমের যোগাযোগ ছিল বলে দাবি করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। হত্যার পেছনে বিষয়টি জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা উচিত।
হরিণাকুণ্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে তদন্তকাজ চলমান। জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ববিরোধের জেরে তার প্রতিপক্ষের লোকজন এ ঘটনা ঘটিয়েছে।


