
খুলনায় চিনি গুড়া ধানের শীষ দিয়ে সাজানো দুর্গাপ্রতিমা ঘিরে দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। নগরীর বাগমারা তেঁতুলতলা সার্বজনীন পূজা মন্দিরে প্রচলিত সাজসজ্জার বাইরে গিয়ে ধান দিয়ে প্রতিমা অলংকরণের এ উদ্যোগ দুর্গোৎসবে যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা। সোনালি ধানের শীষে সাজানো প্রতিমায় ফুটে উঠেছে বাংলার কৃষি ঐতিহ্য ও গ্রামীণ জীবনের পরিচিত আবহ।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, প্রতিমা তৈরিতে প্রায় ৩০ কেজি চিনি গুড়া ধান ব্যবহার করা হয়েছে। চারজন শিল্পী টানা ৪০ দিন কাজ করে প্রতিমাটি নির্মাণ করেছেন। এতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। প্রাকৃতিক উপকরণে তৈরি ব্যতিক্রমী এ প্রতিমা দেখতে প্রতিদিন মণ্ডপে ভিড় করছেন ভক্ত ও দর্শনার্থীরা। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে এ আয়োজন নিয়ে বাড়তি কৌতূহল দেখা গেছে।
মন্দির পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের ভাষ্য, খুলনা মহানগরীতে প্রায় ৭০টি পূজামণ্ডপ থাকলেও বাগমারা তেঁতুলতলা সার্বজনীন পূজা মন্দিরেই ধানের শীষ দিয়ে সাজানো প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, শহরের সার্বজনীন পূজা উদযাপনের ইতিহাসে এ ধরনের উদ্যোগ প্রথম।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বাগমারা তেঁতুলতলা সার্বজনীন পূজা মন্দিরটি ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে সেখানে নিয়মিত পূজা-অর্চনা হয়ে আসছে। ১৯৯৮ ও ১৯৯৯ সালে প্রতিমার সঙ্গে বৈদ্যুতিক পদ্ধতিতে সিংহের গর্জনের শব্দ যুক্ত করা হয়েছিল, যা সে সময় দর্শনার্থীদের মধ্যে সাড়া ফেলেছিল।
পূজা পরিচালনা কমিটির এক সদস্য বাসসকে বলেন, এবার ধানের শীষ দিয়ে দুর্গাপ্রতিমা সাজানো হয়েছে। তরুণ প্রজন্ম, মন্দির কমিটি ও পূজা আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত সবার সম্মিলিত পরিশ্রমে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে। ব্যতিক্রমী আয়োজনের কারণে এবার মণ্ডপে দর্শনার্থীদের উপস্থিতিও বেড়েছে। তিনি সবাইকে পরিবার-পরিজন নিয়ে মণ্ডপে আসার আমন্ত্রণ জানান।
মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্য সুব্রত সরকার বাসসকে বলেন, দর্শনার্থী ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে প্রতিবারের তুলনায় ব্যতিক্রমী কিছু করার পরামর্শ আসছিল। সবার আগ্রহের কথা বিবেচনা করেই ধানের শীষ দিয়ে প্রতিমা সাজানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রতিমা তৈরিতে প্রায় এক মাস ১০ দিন সময় লেগেছে এবং ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। দর্শনার্থীদের ভিড় বিবেচনায় রেখে ব্যবস্থাপনাও করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশের অর্থনীতি ও গ্রামীণ জীবনে ধানের গুরুত্ব অপরিসীম। মাঠে পাকা ধানের শীষ দুলতে শুরু করলে কৃষকের ঘরে নতুন ফসলের প্রত্যাশা তৈরি হয়। দুর্গাপ্রতিমার অলংকরণে সেই সোনালি ধানের ব্যবহার কৃষি, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনযাত্রার নিবিড় সম্পর্ককে তুলে ধরেছে।
আয়োজকদের এ উদ্যোগে লোকজ শিল্প ও কৃষিভিত্তিক ঐতিহ্যকে নতুনভাবে উপস্থাপনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলার কৃষি সংস্কৃতির পরিচিতি তুলে ধরছে ধানের শীষে সাজানো ব্যতিক্রমী দুর্গাপ্রতিমা।


