
খুলনা মহানগরীর খানজাহান আলী রোডের পিটিআই মোড় এলাকায় নিউ অ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় প্রতিষ্ঠানের দরজা, কাচ, দুটি শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ও একটি টেলিভিশন ভাঙচুর করা হয়। পাশাপাশি প্রায় ৩০ হাজার টাকা দামের একটি মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে সুলতানা হামিদ আলী স্কুলের বিপরীতে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটিতে এ হামলা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলায় জড়িত চার থেকে পাঁচজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁরা সম্প্রতি একটি দ্রুত বিচার মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি রোজী জানান, দুপুর ১টা ৫০ মিনিটের দিকে চার থেকে পাঁচজন যুবক চাইনিজ কুড়াল নিয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রবেশ করেন। কোনো কথা না বলেই তাঁরা ভাঙচুর শুরু করেন। এ সময় প্রতিষ্ঠানের দরজা, কাচ, দুটি এসি ও একটি টেলিভিশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে তাঁরা প্রায় ৩০ হাজার টাকা মূল্যের একটি মুঠোফোন নিয়ে চলে যান। হামলাকারীদের কাছে পিস্তলও ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
প্রাথমিকভাবে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠলেও বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানের মালিকের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন বলেন, খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। সেখানে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কাচ ও এসি ভাঙচুরের চিহ্ন দেখতে পান। পরে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে চার থেকে পাঁচজনকে হামলায় অংশ নিতে দেখা যায়। তাঁদের হাতে চাইনিজ কুড়াল ছিল।
চাঁদা দাবির বিষয়ে ওসি বলেন, প্রতিষ্ঠানের মালিকের সঙ্গে কথা বলে এ ধরনের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজারকে ফোন করে নূরে আলম নামে একজনকে চেনেন কি না, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। চাঁদা দাবির বিষয়ে মালিক এখনো পুলিশকে কিছু জানাননি।
ওসি আরও জানান, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁরা এর আগে একটি দ্রুত বিচার মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। ছিনতাইয়ের ঘটনায় ওই মামলায় তাঁদের আসামি করা হয়েছিল। গত ২৬ অক্টোবর তাঁরা জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
এর আগে গত ২৪ অক্টোবর রাতে নগরীর বাবুখান রোডে অবস্থিত সন্ধানী ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভাঙচুর ও গুলির ঘটনা ঘটে। পরদিন সোনাডাঙ্গায় প্রতিষ্ঠানটির দ্বিতীয় শাখায় গিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের অস্ত্রের মুখে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ ওঠে। এর কয়েক দিনের ব্যবধানে নগরীর আরেকটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হামলার ঘটনা ঘটল।


