
বাংলাদেশ সচিবালয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘রেড টেলিফোন’ সংযোগের তামার তার চুরির ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের একজন সচিবালয়ের আউটসোর্সিং কর্মী, অপরজন চুরি হওয়া তার কিনে নেওয়া এক ভাঙারি ব্যবসায়ী। তাঁদের কাছ থেকে চুরি হওয়া তামার তারও উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সচিবালয়ের আউটসোর্সিং কর্মী রঞ্জন চন্দ্র (২৫) ও ভাঙারি ব্যবসায়ী রেজাউল ইসলাম (৩২)।
এবারের কোরবানির ঈদের সরকারি ছুটি শুরু হয় ২৫ মে। সাত দিনের ছুটি শেষে গত সোমবার সচিবালয় খুললে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীরা দেখতে পান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের রেড টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বিষয়টি জানানো হলে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) কর্মকর্তারা কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় সংযোগ পুনরুদ্ধার করেন।
বিটিসিএলের একজন যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা জানান, রেড টেলিফোনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের যেকোনো স্থানে তাৎক্ষণিকভাবে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন।
ঘটনার পর বিটিসিএলের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজিদ হায়দার বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডিতে উল্লেখ করা হয়, সচিবালয়ের পুরোনো ১ নম্বর ভবন থেকে নতুন ১ নম্বর ভবন পর্যন্ত স্থাপিত কপার কেব্লের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের রেড টেলিফোন ও অন্যান্য টেলিফোন সংযোগ সচল রাখা হতো। দুর্বৃত্তরা ভবনের ছাদে থাকা ওই কপার কেব্ল কেটে নেওয়ায় এসব সংযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলছে, পুলিশের অন্য ইউনিটের সঙ্গে তদন্তে নেমে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সদস্যরা গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আজ দুপুরে সচিবালয়ের আউটসোর্সিং কর্মী রঞ্জন চন্দ্রকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেন। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন, গত ২২ মে সচিবালয়ের ৩ নম্বর ভবন থেকে তামার তার চুরি করেন তিনি। পরে ১ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশে হলের সামনে একটি ভাঙারি দোকানে প্রতি কেজি ৬০০ টাকা দরে মোট ৮ কেজি ২০০ গ্রাম তামার তার বিক্রি করেন।
রঞ্জন চন্দ্রের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একুশে হলসংলগ্ন এলাকা থেকে ভাঙারি ব্যবসায়ী রেজাউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেখানোমতে চকবাজারের হোসেনী দালান রোডের একটি ভাঙারির গুদাম থেকে চুরি হওয়া তামার তার উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ কর্মকর্তাদের ধারণা, সচিবালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংযোগের তার চুরির সঙ্গে একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত থাকতে পারে। চক্রের হোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


