
বিয়ের কয়েক বছর পেরিয়ে গেছে। স্বামী দায়িত্বশীল, সংসারও ভালো চলছে। কিন্তু মায়ের সামনে গেলেই তার আচরণে যদি বড় পরিবর্তন আসে কিংবা দৈনন্দিন নানা কাজে এখনও মায়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল থাকেন, তাহলে তাকে ‘মামা’স বয়’ বলা যায় কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
মায়ের প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ স্বাভাবিক। তবে নিজের সংসার ও ব্যক্তিগত জীবনের সিদ্ধান্তেও যদি একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ অতিরিক্তভাবে মায়ের ওপর নির্ভর করেন, তাহলে কিছু আচরণ থেকে বিষয়টি বোঝা যেতে পারে।
রান্নার সঙ্গে মায়ের রান্নার তুলনা
আপনার রান্না করা প্রায় সব খাবারের সঙ্গেই কি স্বামী তার মায়ের রান্নার তুলনা করেন? মায়ের রান্নাই সব সময় তার কাছে বেশি সুস্বাদু মনে হয়? এর পেছনে শুধু খাবারের স্বাদের বিষয় নাও থাকতে পারে। ছোটবেলায় মায়ের হাতে আদর করে খাওয়ার অভ্যাস ও সেই স্মৃতির আবেগ থেকেও এমন তুলনা আসতে পারে।
মা এখনও জামাকাপড় কেচে দেন
সন্তানের যত্ন নেওয়া মায়ের স্বাভাবিক দায়িত্বের অংশ। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজের কাজ নিজে করার অভ্যাসও তৈরি হওয়া প্রয়োজন। স্বামীর জামাকাপড় যদি এখনও নিয়মিত তার মা কেচে দেন বা ব্যক্তিগত অনেক কাজ করে দেন, তাহলে এটি অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার একটি লক্ষণ হতে পারে।
মায়ের ফোনে সব সময় ব্যস্ত
অফিসে ঠিকমতো পৌঁছেছেন কি না, দুপুরে খেয়েছেন কি না, কখন বাড়ি ফিরবেন—এমন নানা বিষয়ে মায়ের নিয়মিত ফোন আসতে পারে। এটি স্বাভাবিকও হতে পারে। তবে মায়ের সঙ্গে কথা না হলে যদি স্বামী অস্বস্তি বা অসহায় বোধ করেন কিংবা দিনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ের বড় অংশ মায়ের সঙ্গে ফোনে কাটান, তাহলে বিষয়টি খেয়াল করা যেতে পারে।
মা সামনে এলেই আচরণ বদলে যায়
আপনার বা কর্মক্ষেত্রে যিনি আত্মবিশ্বাসী ও দৃঢ়, মায়ের সামনে গেলেই যদি তার আচরণ অনেকটাই বদলে যায়, সেটিও লক্ষ্য করার মতো বিষয়। মায়ের কাছ থেকে বাড়তি আদর-আহ্লাদ পাওয়ার অভ্যাস থাকলে প্রাপ্তবয়স্ক হয়েও কারও মধ্যে শিশুসুলভ আচরণ দেখা যেতে পারে।
সব সময় মায়ের পক্ষ নেন
দাম্পত্য জীবনে কোনো বিষয় নিয়ে মতবিরোধ হলে স্বামী কি প্রায় প্রতিবারই মায়ের পক্ষ নেন? আপনার বক্তব্য শোনার আগেই যদি মায়ের অবস্থানকে সমর্থন করেন, তাহলে বিষয়টি নিয়ে দুজনের মধ্যে খোলামেলা আলোচনা করা প্রয়োজন। কারণ দাম্পত্যের সিদ্ধান্তে দুজনের মতামতের গুরুত্ব থাকা স্বাভাবিক।
মা প্রায়ই হঠাৎ চলে আসেন
আপনাদের সংসারে শাশুড়ি যদি প্রায়ই আগে থেকে না জানিয়ে চলে আসেন এবং স্বামীও বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে নেন, তাহলে পারিবারিক সীমারেখা নিয়ে কথা বলা দরকার হতে পারে। মায়ের প্রতি টান যেমন এর কারণ হতে পারে, তেমনি ছেলেরও মাকে কাছে পেলে অতিরিক্ত সময় দেওয়ার অভ্যাস থাকতে পারে।
মাকে খুশি রাখার অপরাধবোধ
কিছু পুরুষ ছোটবেলা থেকেই মাকে খুশি রাখাকে নিজের বড় দায়িত্ব হিসেবে দেখেন। ফলে মা মনে করলে ছেলে তাকে যথেষ্ট সময় বা গুরুত্ব দিচ্ছেন না, তখন ছেলের মধ্যে অপরাধবোধ তৈরি হতে পারে। মায়ের প্রত্যাশা পূরণ করতে গিয়ে নিজের ব্যস্ততা কিংবা দাম্পত্যের প্রয়োজনও তিনি উপেক্ষা করতে পারেন।
মায়ের সঙ্গেই বেশি সময় কাটান
সপ্তাহান্তে স্ত্রী বা নিজের পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর বদলে যদি নিয়মিত মায়ের কাছে থাকতে যেতে বেশি আগ্রহী হন, সেটিও খেয়াল করার মতো বিষয়। একই বাড়িতে থাকলে দিনের অবসর সময়ের প্রায় পুরোটাই যদি মায়ের সঙ্গে কাটাতে চান, তাহলে নিজের সংসারের সঙ্গে সময়ের ভারসাম্য আছে কি না, সেটি দেখা প্রয়োজন।
দাম্পত্যের কথা মাকে জানান
স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত বিষয় কিংবা দাম্পত্যের সমস্যা নিয়মিত মায়ের সঙ্গে আলোচনা করাও অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার লক্ষণ হতে পারে। এমনকি স্ত্রীর সঙ্গে ঝামেলা হলে মায়ের কাছে অভিযোগ করা বা দাম্পত্যের সিদ্ধান্তে মায়ের মতামতকে চূড়ান্ত গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টিও সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
আপনাকে সম্মান করেন
তবে মায়ের প্রতি গভীর ভালোবাসা বা ঘনিষ্ঠতা থাকলেই কাউকে নেতিবাচক অর্থে ‘মামা’স বয়’ বলা যায় না। বরং মায়ের কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষা ও মূল্যবোধ অনেক পুরুষকে নারীদের প্রতি আরও যত্নশীল ও সম্মানজনক হতে শেখাতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—মায়ের প্রতি ভালোবাসার পাশাপাশি নিজের স্ত্রী ও সংসারের প্রতিও সম্মান, দায়িত্ববোধ এবং প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত সীমারেখা বজায় রাখা।


