
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় সরকারের অদক্ষতা জাতির কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ছয় মাস বেশি সময় না হলেও বিকল্প পরিকল্পনা ও সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা নিয়ে আর অপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির জরুরি বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
হামিদুর রহমান বলেন, ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের পর ছয় মাস পার হলেও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, সাংবিধানিক সংস্কার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জ্বালানি ও গ্যাস সংকট এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকার প্রত্যাশিত পদক্ষেপ নিতে পারেনি। জনগণের দেওয়া গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন, পরিবহন ও কৃষি খাতে সমস্যা এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি জনজীবনে প্রভাব ফেলেছে। বিরোধী দলের দেওয়া ১০টি প্রস্তাব সরকার আমলে নেয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
গ্যাস সংকটের কারণে শিল্পকারখানা ও বেকারি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে প্রায় ১২০০ বেকারি বন্ধ হওয়ার খবর এসেছে। তৈরি পোশাক শিল্পও সংকটে পড়েছে। পাশাপাশি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও বাজার সিন্ডিকেট বন্ধেও সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে হামিদুর রহমান বলেন, গুম, খুন ও অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক ঘটনা বেড়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর ও গণমাধ্যমের তথ্য উল্লেখ করে তিনি ৫১৮টি শিশু অপহরণের মামলার কথা বলেন। রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যা, বিরোধী দলের ওপর হামলা এবং এনসিপির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বহরে হামলার ঘটনাও তুলে ধরেন তিনি।
দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব বন্ধ হয়নি অভিযোগ করে তিনি বলেন, দেশের জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে এবং অর্থনৈতিক সংকট সমাধানে রাজনৈতিক ঐকমত্য প্রয়োজন।
এ অবস্থায় ১১ দলীয় ঐক্য রাজপথের কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৭টায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জমায়েতের পর ৮টায় লংমার্চ শুরু হবে। গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও গাইবান্ধা হয়ে রংপুর জেলা স্কুল মাঠে গিয়ে কর্মসূচি শেষ হবে। পথে পাঁচটি পথসভা অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি জানান, ১১ দলীয় ঐক্যের ছয় দফা দাবি এখন সাত দফায় রূপান্তরিত হয়েছে। নতুন দাবির মধ্যে দুর্নীতি, দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজি বন্ধের বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি দলীয়করণ বন্ধ এবং বিচার দৃশ্যমান করার দাবিও রয়েছে।


