
বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার গাবখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অত্যান্ত ঝুকিপূর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা রয়েছে চরম আতংকে।
দীর্ঘ সংস্কারের অভাবে বিদ্যালয়ের ভবনটি দীর্ঘদিন নাজুক অবস্থা বিরাজ করছে। ভবনের পলেস্তরা খসে পড়ছে, দেয়ালে দেখা দিয়েছে অসংখ্য ফাটল, ছাদ থেকে ঝরে পড়ছে সিমেন্ট বালির গুঁড়ো। বৃষ্টি মৌসুমে শ্রেণিকক্ষের ভেতর স্যাঁত স্যাতে অবস্থা বিরাজ করে। ভবনটি অত্যান্ত ঝুকির্পর্ণ হলেও, বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়েই ক্লাস চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, বিদ্যালয়টি ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আশির দশকে উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে বিদ্যালয়ের আট কক্ষ বিশিষ্ট দ্বিতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল। বর্তমানে বিদ্যালয়ে তিন শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। শিক্ষক আছে ১৩জন এবং কর্মচারীর সংখ্যা ৬জন। অথচ ভবনটির এ বেহাল দশা দীর্ঘদিনের। বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার জানালেও এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। ফলে প্রতিদিনই আতঙ্ক নিয়ে পাঠদানে অংশ নিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, বিদ্যালয়ে চলছে ভয় ও ঝুঁকির মধ্যে শিক্ষাদান। বিদ্যালয়ের প্রতিটি কক্ষেই দেয়াল জুড়ে ছোট-বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। ছাদের বিভিন্ন জায়গা থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে। ছাদ ও বিম থেকে লোহার রড বেরিয়ে এসেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে শ্রেণিকক্ষে। দেয়ালের নিচে ভেজা মেঝেতে বসে ক্লাস করতে হয় শিক্ষার্থীদের। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবার মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, ক্লাস চলাকালীন সময়ে মাঝে মধ্যে ছাদের পলেস্তরা খসে পড়ে। এতে অনেক সময় শরীরে ধুলা বালি এসে পড়ে। গত কয়েকদিনে কয়েকজন শিক্ষার্থীর শরীরের উপর পলেস্তার খসে পড়ে তারা আহত হয়েছে। তারপরও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় এই ভবনেই ক্লাস করতে হচ্ছে।’
অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: রবিউল ইসলাম জানান, ভবনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে অবগত করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ উপজেলা শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারা ভবনটি পরিদর্শণ করেছেন। তিনি আরো বলেন, বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে তিল তিল করে এখন অনেক শিক্ষার্থী এখানে ভর্তি হয়। শিক্ষকরা অত্যান্ত আন্তরিকতার সাখে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করান যে কারনে বিদ্যালয়ে সকল পরীক্ষার ফলাফল খুব ভাল হয়। তিনি নতুন ভবনের জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
অধ্যাপক মোফাজ্জল হায়দার বলেন, ভবনটি যা দেখলাম সত্যিই খুবই নাজুক অবস্থা, শ্রেণিকক্ষের পাশাপাশি ছাত্রীদের কমনরুমের অবস্থা খুবই খারাপ। সেখানে বিভিন্ন সময় দেয়াল ও ছাদ থেকে পলেস্তার খসে পড়ছে। ইতিমধ্যে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে বলেও জানা তিনি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ গোলাম মোস্তফা জানান, গাবখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ঝুকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান চলছে। তিনি এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছেন। নতুন ভবনের জন্য দ্রুত বরাদ্ধ আনার চেষ্টা করবেন।


