
নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার এক সাত বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের পর গুরুতর শারীরিক জটিলতার সৃষ্টি হওয়ায় চিকিৎসকদের তার জরায়ু অপসারণ করতে হয়েছে। শিশুটি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রথম শ্রেণিতে পড়া ওই শিশুটি কিছুদিন আগে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। ঘটনার পর ভয়ে সে পরিবারের কাউকে বিষয়টি জানাতে পারেনি। তবে কিছুদিনের মধ্যে তার তীব্র পেটব্যথা শুরু হলে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।
প্রথমে স্থানীয় চিকিৎসকদের কাছে নেওয়া হলে তাকে ব্যথানাশক ওষুধ দেওয়া হয়। সাময়িকভাবে ব্যথা কমলেও পরে আবারও সমস্যা দেখা দেয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সেখানে পরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানান, নির্যাতনের কারণে শিশুটির জরায়ুতে মারাত্মক সংক্রমণ হয়েছে। পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠায় তাকে বাঁচাতে জরুরি অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত ৪ মার্চ হাসপাতালটিতে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার জরায়ু অপসারণ করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জরায়ু অপসারণের ফলে ভবিষ্যতে কোনো নারীর সন্তান ধারণের সক্ষমতা থাকে না। পাশাপাশি শারীরিক নানা জটিলতার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
এ ঘটনায় গত ১২ মার্চ বারহাট্টা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। শিশুটির বাবা সরিকুল ইসলাম জানান, ঘটনার পর কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি টাকা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য চাপ দিচ্ছেন। তবে তিনি তার মেয়ের ওপর হওয়া নির্যাতনের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
এদিকে ভুক্তভোগী পরিবারকে আইনি সহায়তা দিতে এগিয়ে এসেছে ‘স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতি’ নামের একটি বেসরকারি সংস্থা।
সংস্থাটির প্রোগ্রাম ম্যানেজার কোহিনূর বেগম বলেন, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং আইনি সহায়তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
তবে মামলার এক সপ্তাহ পার হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হাসান বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।


