জন্মগতভাবে ঠোঁট ও তালু কাটা শিশুদের যথাযথ চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সরকার সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
তিনি বলেন, উপযুক্ত চিকিৎসাসেবা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিয়ে এসব শিশুর মুখে হাসি ফোটানো শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, এটি সামাজিক ও জাতীয় দায়িত্বও।
শুক্রবার রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে আন্তর্জাতিক দাতব্য প্রতিষ্ঠান ‘স্মাইল ট্রেন আমেরিকা’র সহযোগিতায় নিউ লাইফ হাসপাতাল ক্লেফট প্রজেক্ট ও চাইল্ড হেলথ্ এওয়ারনেস ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘বিশ্ব হাসি দিবস-২০২৬’ উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জন্মগত ঠোঁট ও তালু কাটা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সুস্থ হয়ে ওঠা শিশুদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানে মিলনমেলা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
ফকির মাহবুব আনাম বলেন, “হাসি একটি সার্বজনীন ভাষা। বিশেষ করে একটি শিশুর মুখের হাসি শুধু তার নিজের নয়, তার পরিবার ও পুরো সমাজকে আনন্দিত করে। একটি সুস্থ ও হাসিখুশি শিশুই আগামী দিনের সুস্থ ও সমৃদ্ধ সমাজ ও জাতি গড়ে তুলবে। তাই শিশুদের সুস্থতা, নিরাপত্তা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব।”
তিনি বলেন, শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজ, সাশ্রয়ী ও দ্রুত করতে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। টেলিমেডিসিন, স্বাস্থ্যবিষয়ক অ্যাপ এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুরাও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। প্রযুক্তির সুফল সমাজের প্রতিটি স্তরে এবং প্রতিটি শিশুর কাছে পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে।
মন্ত্রী বলেন, ঠোঁট ও তালু কাটা শিশুদের চিকিৎসার মাধ্যমে তাদের মুখে হাসি ফিরিয়ে দেওয়ার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। অধ্যাপক ডা. বিজয় কৃষ্ণ দাসসহ সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের এই উদ্যোগকে তিনি শিশু ও তাদের পরিবারের জীবনে নতুন আনন্দ ফিরিয়ে দেওয়ার একটি মহৎ প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম আরও ব্যাপকভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। দেশের বিত্তবান ব্যক্তি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে জনকল্যাণমূলক এ ধরনের কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
ফকির মাহবুব আনাম বলেন, শিশুদের জন্য যে সময়, শ্রম, মেধা ও অর্থ বিনিয়োগ করা হবে, সেটিই দেশের ভবিষ্যতের প্রকৃত বিনিয়োগ। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিটি শিশুর মুখে হাসি ফুটিয়ে তাদের জন্য সুস্থ, নিরাপদ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন হবিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও স্মাইল ট্রেন-বাংলাদেশ ও নেপালের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর এ বি এম মোবাশ্বের হোসেন।
বক্তারা জন্মগত ত্রুটিমুক্ত সমাজ গঠনে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিনামূল্যে অস্ত্রোপচার কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
চাইল্ড হেলথ্ এওয়ারনেস ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক ও নির্বাহী প্রধান অধ্যাপক ডা. বিজয় কৃষ্ণ দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. শামীম আরা খান চৌধুরী, বিশ্ব হাসি দিবস-২০২৬ উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ডা. আসলামুল ইসলাম রুদ্র এবং নিউ লাইফ হাসপাতাল (প্রা.) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. আসাদুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সুস্থ হয়ে ওঠা শিশু ও তাদের অভিভাবকদের শুভেচ্ছা উপহার দেওয়া হয়।


