
পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করা না গেলে তা একসময় জনভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায় বলে মন্তব্য করেছেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি বলেন, সকল উন্নয়ন জনগণের জন্য এবং জনগণের অর্থেই বাস্তবায়িত হয়, তাই উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণের আগে সুষ্ঠু পরিকল্পনা প্রণয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে নগর ভবনের শহিদ আলতাফ মিলনায়তনে ‘নগর সংকট ও সাড়াদান : প্রেক্ষাপট খুলনা জেলার কৌশলগত পরিকল্পনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের খুলনা আঞ্চলিক অফিস সেমিনারের আয়োজন করে।
সেমিনারে বক্তারা জানান, কৌশলগত পরিকল্পনা একটি দীর্ঘমেয়াদি ও দূরদর্শী স্থানিক পরিকল্পনা, যার মাধ্যমে একটি শহর বা অঞ্চলের বর্তমান সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য একটি পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলার রূপরেখা নির্ধারণ করা হয়। এতে আগামী ২০ থেকে ৩০ বছর পর একটি শহরের অবস্থা কেমন হবে এবং নাগরিক সুবিধা কীভাবে নিশ্চিত করা যাবে, তার একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরি করা হয়।
বক্তারা আরও বলেন, অনিয়ন্ত্রিত জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা, যানজট, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো নগর সংকট মোকাবেলায় কৌশলগত পরিকল্পনা একটি বিজ্ঞানসম্মত দিকনির্দেশনা প্রদান করে। সাধারণ পরিকল্পনায় যেখানে তাৎক্ষণিক সমস্যার সমাধানকে গুরুত্ব দেওয়া হয়, সেখানে কৌশলগত পরিকল্পনা ভবিষ্যতের সম্ভাব্য ঝুঁকিকেও বিবেচনায় আনে। ফলে সংকটকালে বিশৃঙ্খলা কমে এবং কার্যকরভাবে উদ্ধার ও সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হয়।
খুলনার মতো দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, জলাবদ্ধতা, ভূমিকম্প ও লবণাক্ততার মতো ঝুঁকি নিয়মিত দেখা দেয়। এসব পরিস্থিতিতে শহরের অবকাঠামো ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে সচল রাখা এবং দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে এ ধরনের পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে বলে সেমিনারে উল্লেখ করা হয়।
কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, সেমিনারে প্রাপ্ত তথ্য খুলনা মহানগরীর ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়ক হবে। তিনি উন্নয়ন ও পরিকল্পনার মধ্যে সমন্বয় সাধনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, এতে উন্নত শহরের মতো নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, গৃহীত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জরুরি। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা ও নাগরিক প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে আরও একটি সেমিনার আয়োজনের আহ্বান জানান তিনি।
নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর খুলনার সিনিয়র প্ল্যানার প্রভাষ চন্দ্র কুন্ডুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ এবং প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান। এছাড়া কেসিসির চিফ প্ল্যানিং অফিসার আবির উল জব্বার, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোল্লা মারুফ রশীদসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


