
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, নগরবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই তার প্রথম অগ্রাধিকার। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে নগরের খালিশপুরের ঐতিহ্যবাহী ‘লাল হাসপাতাল’ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। এসময় কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, সচিব আরিফুল ইসলাম, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রশাসক বলেন, খালিশপুর শিল্পাঞ্চলের মানুষের জন্য ‘লাল হাসপাতাল’ একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যকেন্দ্র। সীমিত সম্পদ ও জনবল নিয়েও প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ জন রোগীকে সেবা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালটির সম্প্রসারণ ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। স্থায়ীভাবে চিকিৎসক নিয়োগের বিষয়েও সরকারকে জানানো হবে বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি জানা গেছে। এ বিষয়ে সিভিল সার্জনের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত বিকল্প চিকিৎসক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মশক নিধন কার্যক্রম নিয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানান কেসিসি প্রশাসক। তিনি বলেন, মশক নিধনের ওষুধ ক্রয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে। কার্যকর ও পরীক্ষিত ওষুধ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নজরুল ইসলাম মঞ্জু আরও বলেন, শহরকে পরিচ্ছন্ন, ধুলামুক্ত ও সবুজ নগরীতে রূপান্তর করাই তার অন্যতম লক্ষ্য। সামনে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মৌসুম আসছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ধোঁয়া দিয়ে মশক নিধনের চেয়ে উৎপাদনস্থল ধ্বংস করাই বেশি কার্যকর। এজন্য ড্রেন, নালা, ডোবা ও ঝোপঝাড় পরিষ্কারে জোর দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, “শুধু সিটি কর্পোরেশন একা পারবে না। নগরবাসীকেও নিজ নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখতে হবে। জনগণের সহযোগিতা ছাড়া মশক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।”
কেসিসি প্রশাসক জানান, খুব শিগগিরই নগরের ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মশক নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত কর্মসূচি হাতে নেওয়া হবে।


