
কাতারের হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হাজারো মানুষের ভিড় ও দীর্ঘ লাইনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে বিদেশি নাগরিকদের দেশ ছাড়ার গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। তবে এই গুঞ্জন ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বিমানবন্দরের এই ভিড় ছিল পূর্বপরিকল্পিত নিরাপত্তা মহড়ার অংশ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বিমানবন্দরের টার্মিনাল ও বাইরে বিপুলসংখ্যক মানুষকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে এসব ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনদের একাংশ দাবি করেন, সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কায় বিদেশি শ্রমিকেরা কাতার ছেড়ে যাচ্ছেন। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
কাতার বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, বিমানবন্দরে এই অতিরিক্ত ভিড় কোনো জরুরি দেশত্যাগের ঘটনা নয়। এটি ছিল দেশজুড়ে পরিচালিত ‘ওয়াতান ২০২৬’ নামের নিরাপত্তা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলাবিষয়ক মহড়ার অংশ।
গত সোমবার হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিপুলসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবী অংশ নেওয়ায় সাময়িকভাবে ভিড়ের সৃষ্টি হয়। বড় ধরনের কোনো সংকট দেখা দিলে বিভিন্ন সংস্থার প্রস্তুতি ও পারস্পরিক সমন্বয় কতটা কার্যকর, তা যাচাই করাই ছিল এই মহড়ার উদ্দেশ্য।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মহড়ার কারণে বিমানবন্দরে সাময়িক ব্যস্ততা তৈরি হলেও নিয়মিত কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়েনি। ফ্লাইট পরিচালনা ও যাত্রীসেবা স্বাভাবিক রয়েছে। সাধারণ যাত্রীদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই বলেও আশ্বস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ।
অর্থাৎ, বিমানবন্দরে হাজারো মানুষের এই সমাগম ছিল পরিকল্পিত নিরাপত্তা মহড়ার অংশ। এর সঙ্গে যুদ্ধের আশঙ্কায় বিদেশি নাগরিকদের কাতার ছেড়ে যাওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই।


