
উপকূলীয় জনপদ কয়রা-পাইকগাছার টেকসই উন্নয়ন ও জনসেবা নিশ্চিত করতে সরকারি কর্মকর্তাদের ‘টিমওয়ার্ক’ হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন খুলনা-৬ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কয়রা উপজেলা পরিষদ কনফারেন্স রুমে আয়োজিত উপজেলা পর্যায়ের সকল সরকারি দপ্তর প্রধানের সাথে এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি এ আহবান জানান।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমি এই অঞ্চলের মানুষের সেবক হিসেবে কাজ করতে চাই। সরকারের প্রতিটি দপ্তরের সেবা যেন সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো ফাইল যেন অহেতুক আটকে না থাকে এবং সেবাগ্রহীতারা যেন কোনোভাবেই হয়রানির শিকার না হন, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখা হবে।’ আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায় উপকূলীয় অঞ্চলের প্রধান সমস্যা জরাজীর্ণ বেড়িবাঁধ ও সুপেয় পানির সংকট।
কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল বাকীর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. রেজাউল করিম, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসার এম শুভনিয়াম, ভেটেরিনারি সার্জন ডা. শুভ বিশ্বাস, উপজেলা কৃষি অফিসার তিলোক কুমার ঘোষ, উপজেলা নির্বাচন অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মুহতারাম বিল্লাহ, সহকারী প্রকৌশলী (জনস্বাস্থ্য) ইশতিয়াক আহম্মেদ, উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসার মো. জামাল, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের খুলনা জেলা সহ-সভাপতি অধ্যাপক ওয়ালিউল্লাহ, কয়রা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মিজানুর রহমান, নায়েবে আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম, সেক্রেটারি শেখ সায়ফুল্লাহ, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা সুজাউদ্দীন আহমেদ, কয়রা সদর ইউনিয়ন আমীর মিজানুর রহমান প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত দপ্তর প্রধানগণ নিজ নিজ দপ্তরের চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জগুলো নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের সামনে তুলে ধরেন। এমপি মহোদয় অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে প্রতিটি বিষয় শোনেন এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। সরকারি অর্থায়নের প্রতিটি কাজের গুণগত মান নিশ্চিতকরণ। দপ্তরগুলোর মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি করে কাজের গতি বাড়াতে হবে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ ও পরামর্শ শোনার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখতে হবে। সভা শেষে সংসদ সদস্য উপজেলা চত্বরে উপস্থিত স্থানীয় জনসাধারণের সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের সমস্যার কথা শোনেন।
সংসদ সদস্য উপস্থিত কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমাদের লড়াই প্রকৃতির সাথে। তাই উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা একটি আধুনিক ও স্মার্ট কয়রা গড়তে চাই, যেখানে কৃষি, মৎস্য ও শিক্ষা খাতে আমূল পরিবর্তন আসবে।


