
জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) কর্মকর্তা পরিচয়ে এক কলেজছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে পদোন্নতির কথা বলে তরুণীর পরিবারের কাছ থেকে টাকা আত্মসাৎ ও ধর্ষণের অভিযোগও উঠেছে ওই যুবকের বিরুদ্ধে। আজ বুধবার ভুক্তভোগী তরুণীর বাবা বাদী হয়ে ওই যুবকসহ তাঁর মা-বাবার বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন।
অভিযুক্ত যুবকের নাম লিয়ন মিয়া ওরফে সম্রাট হোসেন সামিম (৩০)। তিনি গঙ্গাচড়া উপজেলার সয়রাবাড়ী ফুলবাড়ীর চওড়া এলাকার সাফুল মিয়ার ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে মোবাইল ফোনে ওই কলেজছাত্রীর সঙ্গে লিয়নের যোগাযোগ হয়। নিজেকে এনএসআইয়ের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তাঁর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ওই যুবক তরুণীর বাড়িতে গিয়ে তাঁর ঘরে প্রবেশ করেন। পরে ওই তরুণীকে ধর্ষণ করেন লিয়ন।
জানা গেছে, তরুণীর ডাকচিৎকারে পরিবারের লোকজন ও প্রতিবেশীরা গিয়ে ওই যুবককে আটক করেন এবং উত্তমমাধ্যম দেন। পরে পুলিশ খবর পেয়ে ওই যুবককে উদ্ধার করে গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেন। পরে তাঁকে থানায় নেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী তরুণী বলেন, ‘সে বিয়ের কথা বলে একটি অ্যাফিডেভিটের কপি নিয়ে এসে আমাকে স্বাক্ষর করতে বলে। সে আমাকে বলে—‘‘এখনো আমার অফিস থেকে বিয়ের অনুমতি দেয়নি।’’ বিষয়টি এখন জানাজানি হলে তাঁর চাকরি চলে যেতে পারে। এরপর আমাকে বলে—‘‘বাসায় বলো, আমার পদোন্নতি হবে।’’ এ জন্য সাড়ে ১০ লাখ টাকা লাগবে। পদোন্নতি হলে আমরা বিষয়টি স্বজনদের জানাব।’
তরুণীর ভাষ্য, এরপর ওই যুবক তাঁর মা-বাবাকে সঙ্গে নিয়ে তরুণীর বাড়িতে আসেন। বিষয়টি জানার পর বিভিন্ন জায়গা থেকে ম্যানেজ করে তাঁর বাবা সাড়ে ১০ লাখ টাকা দেন ওই যুবককে। তরুণী বলেন, ‘এই টাকা দেওয়ার বিষয়টি আমাদের এলাকার কমবেশি সবাই জানে। কিছুদিন পর জানতে পারি, সে একজন প্রতারক।’
ভুক্তভোগী তরুণীর অভিযোগ, ওই যুবক তাঁকে বিভিন্ন জায়গায় স্ত্রী পরিচয়ে নিয়ে যেতেন এবং সেখানে তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করতেন।
তরুণীর বাবা বলেন, ‘ছেলেটি নিজেকে এনএসআই কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়ায় আমরা বিশ্বাস করেছিলাম। মেয়েকে বিয়ে করবে বলে টাকা দিয়েছি। পরে জানতে পারি, তার পরিচয় ভুয়া। আমরা প্রতারণার শিকার হয়েছি।’
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, অভিযুক্ত যুবকের বাবা ও মা কয়েকবার তরুণীর বাড়িতে এসেছিলেন। ছেলের পদোন্নতির জন্য টাকা প্রয়োজন বলে তাঁরা জানিয়েছিলেন। পরে খোঁজখবর নিয়ে যুবকের পরিচয় নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়।
পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত যুবকের কাছ থেকে বিয়ের একটি অ্যাফিডেভিটের কপি পাওয়া গেছে। ওই কাগজে ভুক্তভোগী তরুণীকে তাঁর স্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কাগজটি ভুয়া এবং অভিযুক্ত যুবক নিজেই এটি তৈরি করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়া অভিযুক্ত যুবকের আগে বিয়ে ও স্ত্রী থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে। শুধু এই তরুণীর পরিবার নয়, আরও কয়েকজনের সঙ্গে একই কৌশলে প্রতারণার তথ্যও পাওয়া গেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সবুর বলেন, ‘আসামিকে আটকের পর তাঁর কাছ থেকে বিয়ের একটি অ্যাফিডেভিট পাওয়া গেছে এবং এনএসআইয়ের কার্ডও পাওয়া যায়। মনে হচ্ছে, এগুলো ভুয়া এবং আসামি নিজেই এগুলো তৈরি করেছেন। তাঁর আগে স্ত্রী থাকার তথ্যও আমরা পেয়েছি। এ ছাড়া তিনি আরও কয়েকজনের সঙ্গে একইভাবে প্রতারণা করেছেন—এমন তথ্যও পাওয়া গেছে। বিষয়গুলো তদন্ত করা হচ্ছে।’
ওসি আরও বলেন, এ ঘটনায় তিনজনের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। আটক যুবককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর মা-বাবার সম্পৃক্ততার বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


