
ইউরোপে অভিবাসনপ্রত্যাশী ও শরণার্থীদের আগমন কমেছে। তবে বিপজ্জনক সমুদ্রপথে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে গিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। এমন তথ্য জানিয়েছে জাতিসংঘের অভিবাসনবিষয়ক সংস্থা আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।
আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরু থেকে সমুদ্রপথে প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী ও শরণার্থী ইউরোপে পৌঁছেছেন। গত বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৯৮ হাজার ৪০। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে সমুদ্রপথে ইউরোপে পৌঁছানো মানুষের সংখ্যা কমেছে প্রায় ৩৯ শতাংশ।
অন্যদিকে, চলতি বছর ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরের বিভিন্ন রুটে অন্তত ২ হাজার ২৯২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। গত বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৯৯৯ জন।
আইওএমের মহাপরিচালক অ্যামি পোপ বলেন, ‘নিরাপদে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে গিয়ে মানুষ এখনও উদ্বেগজনক হারে মারা যাচ্ছে এবং নিখোঁজ হচ্ছে। এই পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে যে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা ক্রমেই আরও ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা করছেন।’
ইতালিমুখী পথে আগমন কমেছে ৫৫ শতাংশ
ইউরোপে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আগমন কমার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে ইতালিমুখী সেন্ট্রাল ভূমধ্যসাগরীয় রুটে। এই পথে আগমন কমেছে ৫৫ শতাংশ।
তবে ইউরোপের কয়েকটি দেশে সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসননীতি কঠোর করার সঙ্গে সামগ্রিকভাবে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আগমন কমে যাওয়ার সরাসরি সম্পর্ক এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি বলে জানিয়েছে আইওএম।
লিবিয়ার কোস্টগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত সমুদ্রে ১৭ হাজার ৬৭ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে আটক করে লিবিয়ায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
পূর্ব ভূমধ্যসাগরে বেড়েছে মৃত্যু
অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বেড়েছে পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় রুটে। এই পথ দিয়ে মূলত গ্রিসসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন তারা।
আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় রুটে মৃত্যুর সংখ্যা গত বছরের ২৮৪ থেকে বেড়ে চলতি বছরে ৪১৭ হয়েছে।
১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যাচাই করা দুর্ঘটনা ও আগমনের ঘটনাগুলো এই পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে আইওএম বলছে, অনেক নৌকাডুবি ও নিখোঁজের ঘটনা নথিভুক্ত না হওয়ায় প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
নিরাপদ অভিবাসনের আহ্বান
অভিবাসনপ্রত্যাশীদের প্রাণহানি ঠেকাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন আইওএমের মহাপরিচালক অ্যামি পোপ।
তিনি বলেন, ‘জীবন বাঁচানো, চলমান মানুষদের সুরক্ষা দেওয়া, পাচার ও শোষণের বিরুদ্ধে লড়াই করা এবং নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসনের পথ তৈরি করতে আমাদের ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন।’
আইওএম জানিয়েছে, ইউরোপের অংশীদারদের সঙ্গে সাম্প্রতিক আলোচনায় পুরো অঞ্চলের জন্য একটি সমন্বিত পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি উঠে এসেছে।
সংস্থাটির মতে, সমুদ্রপথে ইউরোপে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আগমন কমলেও বিপজ্জনক যাত্রার কারণে প্রাণহানি বাড়ছে। তাই শুধু আগমন কমানোর দিকে নজর না দিয়ে সমুদ্রপথে জীবন রক্ষা, মানবপাচার প্রতিরোধ এবং নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনের সুযোগ তৈরির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।


