অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল দেড় বছরে আইন ও নীতির কোনো তোয়াক্কা করেননি। তাঁর যা মন চেয়েছে তা-ই করেছেন। সরকারের পক্ষে আইনি লড়াই করার জন্য নিম্ন আদালত থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ আদালতে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়। নিম্ন আদালতে সরকারি আইনজীবীদের বলা হয় পিপি বা পাবলিক প্রসিকিউটর। আর উচ্চ আদালতে অ্যাটর্নি জেনারেলের নেতৃত্বে অতিরিক্ত, ডেপুটি এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দেওয়া হয়। আইনে একজন অ্যাটর্নি জেনারেল এবং তিনজন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের কথা উল্লেখ থাকলেও ডেপুটি এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের সংখ্যা কত হবে তা নির্ধারণ করা নেই। একইভাবে জেলায় একজন পাবলিক প্রসিকিউটর থাকার কথা বলা হলেও স্পেশাল পিপি, সহকারী পিপি ইত্যাদি পদে কতজন থাকবেন তা নির্ধারণ করা নেই। আর এ সুযোগ নিয়ে আসিফ নজরুল সরকারি আইনজীবী নিয়োগে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছেন। তাঁর দেড় বছরের শাসনকালে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চসংখ্যক সরকারি কৌঁসুলি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে তাঁদের বেতন-ভাতা দেওয়া হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ অপচয় করা হয়েছে শুধু আসিফ নজরুলের নিজের লাভের জন্য।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। নতুন আইনমন্ত্রী হিসেবে আসাদুজ্জামান দায়িত্ব পেয়েছেন। কিন্তু প্রায় দুই মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত আসিফ নজরুল মনোনীত সরকারি আইনজীবীরা আছেন বহাল তবিয়তে। এঁদের কারও কারও রাজনৈতিক পরিচয় ক্ষমতাসীন দলের আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কারও বিরুদ্ধে রয়েছে দুর্নীতির অভিযোগ, কেউ অযোগ্য বলে আইনজীবীদের কাছে পরিচিত। তার পরও তাঁরা কীভাবে বহাল আছেন তা নিয়ে আদালতপাড়ায় আলোচনা হচ্ছে। তবে আইন মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, খুব শিগগিরই নতুন করে সরকারি আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হবে। তিনি জানান, জাতীয় সংসদের অধিবেশনে আইন প্রণয়নসংক্রান্ত কার্যক্রম নিয়ে মন্ত্রণালয় গত এক মাস প্রচণ্ড ব্যস্ত থাকায় নতুন আইনজীবী নিয়োগের প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়েছে। তবে তিনি বলেন, এর মধ্যেই সরকার নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দিয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চিফ প্রসিকিউটর বদল করা হয়েছে। তবে আইনজীবীরা বলছেন, নতুন সরকার যদি দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন সরকারি আইনজীবী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু না করে তাহলে বিচারপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হবে। সেই সঙ্গে ‘গুপ্ত’রা ঢুকে যাবে সরকারের ভিতর।
অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের ছড়াছড়ি : অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে এখন ১০৩ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) ও ২৩০ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) রয়েছেন। এত বেশিসংখ্যক আইন কর্মকর্তা এর আগে কখনো ছিল বলে জানা যায়নি। তাঁরা নিয়োগ পেয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়। এ দুই পদে এত বেশিসংখ্যক নিয়োগের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। এত বেশিসংখ্যক আইন কর্মকর্তার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ‘আমরা দেখছি কী করা যায়। বিষয়টি পর্যালোচনা করে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে।’ অ্যাটর্নি জেনারেল একজন থাকবেন, সংবিধানে এটি সুনির্দিষ্ট করে বলা আছে। অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল তিনজনের বেশি হবে না, এটি বলা আছে ১৯৭২ সালের ‘বাংলাদেশ ল অফিসার্স অর্ডার’-এ। তবে ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদে ঠিক কতজনকে নিয়োগ দেওয়া যাবে, তা সংবিধান বা কোনো আইনে উল্লেখ নেই। যে কারণে যখন যারা ক্ষমতায় থাকে, তারা তাদের পছন্দের আইনজীবীকে এসব পদে ইচ্ছা অনুযায়ী নিয়োগ দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের সূত্রমতে আওয়ামী লীগ সরকার আমলে (২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে) বিভিন্ন সময়ে ৬০ থেকে ৬৮ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলেন। তখন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলেন ১৪৩ জন।
আর অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনজন। জুলাই গণ অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে ওই সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া আইন কর্মকর্তারা পদত্যাগ করেন। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দেওয়া হয়। অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের শুরুতে তিনজন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ও কয়েকজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দেওয়া হয়। পর্যায়ক্রমে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদে আরও নিয়োগ দেওয়া হয়। অনেকই মনে করেন আসিফ নজরুল ডেপুটি এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ নিয়ে রীতিমতো বাণিজ্য করছেন। এঁদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অন্তর্বর্তী সরকার আমলে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ পাওয়া সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আবুল হাসানকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে একজন বিচারপ্রার্থীর কাছ থেকে ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বলে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল জানিয়েছেন। নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া আইন কর্মকর্তাদের কাজ মূল্যায়ন করা হবে।’ তিনি নিশ্চিত করেন যে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসে দুর্নীতির কোনো জায়গা থাকবে না। একাধিক সূত্র জানিয়েছেন, ১৯ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট খুললে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসে শুদ্ধি অভিযান শুরু হবে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল : ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। ওই বছরের ৫ সেপ্টেম্বর চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। এ ছাড়া নয়জন প্রসিকিউটর নিয়োগ দেওয়া হয়। বিএনপি সরকার গঠনের পর ২৩ ফেব্রুয়ারি চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের নিয়োগ বাতিল করে সরকার। একই দিন নতুন চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে আইনজীবী মো. আমিনুল ইসলামকে নিয়োগ দেওয়া হয়। ৯ মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নতুন দুজন প্রসিকিউটর নিয়োগ দেওয়া হয়। তাঁরা হলেন মার্জিনা রায়হান (মদিনা) ও মোহাম্মদ জহিরুল আমিন। অন্যদিকে প্রসিকিউটর মো. সাইমুম রেজা তালুকদার পদত্যাগ করেন। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ নতুন দুই প্রসিকিউটরকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। তাতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন ১৯৭৩ অনুসারে ট্রাইব্যুনালের মামলা পরিচালনার জন্য মার্জিনা রায়হান ও মোহাম্মদ জহিরুল আমিনকে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিয়োগ প্রদান করা হলো। পৃথক আরেক প্রজ্ঞাপনে আইন ও বিচার বিভাগ বলেছে, ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর পদে নিয়োগকৃত সাইমুম রেজা তালুকদারের পদত্যাগপত্র গ্রহণপূর্বক তাঁকে এ পদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর তিনি পদত্যাগ করেন। মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় কারাবন্দি এক আওয়ামী লীগ নেতাকে জামিনে মুক্তি পাইয়ে দেওয়ার জন্য পরিবারের কাছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই প্রসিকিউটরের ১ কোটি টাকা ঘুষ চাওয়ার অভিযোগের যে অডিও রেকর্ড ফাঁস হয়েছে, সেটির বিষয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন বর্তমান চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। বর্তমানে দুটি ট্রাইব্যুনালে ২০২৪ সালের জুলাই গণ অভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যা, নির্যাতনসহ ২১ মামলার বিচার চলছে। চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে এসব মামলার তদন্ত ও প্রসিকিউশন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা হবে। একাধিক সূত্র জানান, চলতি মাসের মধ্যেই বিতর্কিত কয়েকজন প্রসিকিউটর পদত্যাগ করতে পারেন বা সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। বিদায়ি চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামসহ কিছু প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে পেশাগত অসদাচরণ, শৃঙ্খলাভঙ্গ ও অনৈতিক কার্যক্রমের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ তদন্তের জন্য একটি বিশেষ টিম গঠন করা হতে পারে। পিপি নিয়োগে নৈরাজ্য এবং চরম স্বেচ্ছাচারিতা : আসিফ নজরুল নিম্ন আদালতে পাবলিক প্রসিকিউটর বা পিপি নিয়োগে নজিরবিহীন স্বেচ্ছাচারিতা করেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পিপি নিয়োগ বাণিজ্য শুরু করেন আসিফ নজরুল। ২০২৪ সালের অক্টোবরে জেলা ও দায়রা জজ আদালত, মহানগর আদালত, বিশেষ জজ আদালতসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নিম্ন আদালতে সাড়ে ৪ হাজারের মতো পিপি, জিপিসহ অন্যান্য আইন কর্মকর্তা নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়। ২০২৪-এর ১৪ অক্টোবর রাতে ঢাকা জেলার ৬৭০ জন আইন কর্মকর্তার নাম প্রকাশ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
এদিন সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, ‘ইতোমধ্যে ঢাকা জেলার পিপি-জিপিদের নাম প্রকাশ করে প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে। অন্যান্য জেলার তালিকা পর্যায়ক্রমে প্রকাশ হবে।’ কিন্তু সারা দেশে পিপি তালিকা প্রকাশের পর এ নিয়ে রীতিমতো হাসিতামাশা শুরু হয়। এমনকি মৃত ব্যক্তিকে সরকারি আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। জামালপুরে দুই বছর আগে মৃত এক ব্যক্তি সরকারি আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ পান বলে অভিযোগ ওঠে। নিয়োগের আদেশ জারির পর জেলা আইনজীবী সমিতি কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশে জেলা বিএনপির সহসভাপতি, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) ফজলুল হক এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য আনোয়ার হোসেন দুই বছর আগে মারা গেলেও তাঁকে অতিরিক্ত জিপি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অতিরিক্ত পিপি দিদারুল ইসলামের নাম একই তালিকায় দুবার লেখা হয়েছে। আমরা কেউ চিনি না এমন আইনজীবীও কীভাবে নিয়োগ পান?’ আনোয়ার হোসেনের বাড়ি জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলায়। তিনি দুই বছর আগে মারা যান বলে তাঁর সহকর্মীরা নিশ্চিত করেছেন। তখন সরকারি আইন কর্মকর্তা হিসেবে পিপি, জিপি ও এপিপিদের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম।
একটি আদালতে বা জেলায় কতজন সরকারি আইনজীবী লাগবে তা যাচাই না করে শুধু ব্যক্তিগত লাভের জন্য ইচ্ছামতো পিপি নিয়োগ দেন আসিফ নজরুল। জেলা দায়রা বা মহানগর দায়রা আদালতে একেকটি এজলাসে বিচারকাজ পরিচালনা করতে রাষ্ট্রপক্ষে সাধারণত সর্বোচ্চ ১০ জন আইন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু আসিফ নজরুল ব্যতিক্রম ঘটান ঢাকার দুটি আদালতে। তিনি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে ৮৪ এবং ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ৬১ জন বিভিন্ন পদমর্যাদার সরকারি আইন কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছিলেন। যদিও এর আগে মহানগর দায়রা জজ আদালতে চার এবং জেলা দায়রা জজ আদালতে নয়জন আইন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেছেন। অথচ চারজনের স্থলে ৮৪ এবং নয়জনের স্থলে ৬১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। আসিফ নজরুলের দায়িত্ব পালনকালে ঢাকার আদালতগুলোয় রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করতে ৬৫৯ জন আইন কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছিল আইন, বিচার এবং সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগ। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ঢাকা মহানগর দায়রা আদালত, ঢাকা জেলা ও দায়রা আদালত-এ তিন আদালতেই দায়িত্ব পালন করেন ১৪৫ জন আইন কর্মকর্তা। বিষয়টি ঢাকার আদালত এলাকায় আলোচনার খোরাক হয়েছিল। কিন্তু আসিফ নজরুল এসব সমালোচনা থোড়াই কেয়ার করেছেন। নিজের পকেট ভরাতে যা কিছু সম্ভব সবই তিনি করেছেন। এর ফলে আদালত অঙ্গনে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল।
আসিফ নজরুলের নিয়ন্ত্রণে ছিল দুর্নীতি দমন আদালত বাংলাদেশে দুর্নীতি দমন সম্পর্কিত মামলা বিচারের জন্য ৩৭টি বিশেষ জজ আদালত রয়েছে। যার মধ্যে ঢাকাতেই ১৩টি। এ আদালতের বিচারক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল আসিফ নজরুলের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের। এসব আদালত নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। কিন্তু বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব আদালতের বিচারক পরিবর্তনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আসিফ নজরুল আইন উপদেষ্টার পদ থেকে বিদায় নিয়েছেন কিন্তু তাঁর নিয়োগকৃত লোকজন এখনো বহাল তবিয়তেই আছেন। ফলে ন?্যায়বিচার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বিএনপির অঙ্গীকার এই লোকজনকে রেখে কতটুকু সম্ভব-সেই প্রশ্ন রয়েই গেছে। আইনজীবীরা মনে করেন, অবিলম্বে আসিফ নজরুলের সময় আইন অঙ্গনে সব বিতর্কিত নিয়োগ বাতিল করা দরকার। আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ নিয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কয়েক দফা ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি। এসএমএস পাঠালেও কোনো উত্তর দেননি।


