আইপিএলে ইম্প্যাক্ট প্লেয়ার নিয়মের বিরুদ্ধে কথা উঠছে জোরালোভাবে। এবার এই নিয়ম নিয়ে অন্যদের সঙ্গে বিরোধের সুর মেলালেন কাইরন পোলার্ড। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ব্যাটিং কোচ কোনো রাখঢাক না রেখেই এই ব্যাপারে কথা বলেছেন। তার মতামত, ‘আপনি যদি ব্যক্তিগতভাবে আমাকে জিজ্ঞাসা করেন আমি এটা পছন্দ করি নাকি করি না, আমি সোজাসুজি বলতে পারি: আমি এর সমর্থক নই।’
২০১০ মৌসুম থেকে আইপিএলের সঙ্গে আছেন সাবেক মুম্বাই অলরাউন্ডার। তার মনে হচ্ছে, ইম্প্যাক্ট প্লেয়ারের নিয়মের কারণে অলরাউন্ডারদের দক্ষতার সঠিক ব্যবহার হচ্ছে না, যার প্রভাব পড়তে পারে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। তিনি বলেন, ‘এটি (ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার নিয়ম) তুলে দেওয়ার বিষয়টি আসলে আমার এখতিয়ারভুক্ত নয়। তবে আমি যেমনটা বলেছি, এটি নিশ্চিতভাবেই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে স্কোর অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও কি এর একই ধরনের প্রভাব পড়েছে? আমি আসলে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখিনি, কারণ সেখানকার সমীকরণ কিছুটা ভিন্ন—কোনো লিগ ম্যাচে যদি আপনি দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারান, তবুও আপনার হাতে পরিস্থিতি সামলে নেওয়ার সুযোগ থাকে।’
বিষয়টি নিয়ে নীতিনির্ধারকদের ভাবতে বললেন পোলার্ড, ‘তাই নীতিনির্ধারকদের মূল্যায়ন করা উচিত যে এটি আসলে খেলাটির জন্য ভালো কি না, টেলিভিশনের জন্য ভালো কি না, নাকি এটি শুধু কিছু ব্যক্তির জন্য উপকারী। ইম্প্যাক্ট প্লেয়ার নিয়মের কারণে এমন কিছু বিশেষ দক্ষতা আছে, যা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে হয়তো পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হবে না। আশা করি তারা পর্যালোচনা করে দেখবেন যে এটি সত্যিই ফলপ্রসূ কি না। আর যদি তা না হয়—এবং নিয়মটি যদি বহাল থাকে—তবে আপনাকে শুধু পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।’রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি, মহেন্দ্র সিং ধোনি, শুভমান গিল ও অক্ষর প্যাটেলের মতো খেলোয়াড়রা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে এই নিয়মের সমালোচনা করেছেন। মৌসুমের শুরুতে অক্ষর বলেছিলেন, ‘আমি এই নিয়ম পছন্দ করি না। কারণ আমি একজন অলরাউন্ডার।’ তার ব্যাখ্যা, ‘আগে আপনি ব্যাটিং ও বোলিংয়ের জন্য একজন অলরাউন্ডারকে নিতেন। কিন্তু এই নিয়মের কারণে টিম ম্যানেজমেন্ট কেবল একজন ব্যাটার বা বোলারকে খোঁজে। তাদের ভাবনায় থাকে, ‘কেন আমাদের একজন অলরাউন্ডার লাগবে?’
গিলও সমালোচকের ভূমিকায়। গুজরাট টাইটান্স অধিনায়ক বললেন, ‘আমার ব্যক্তিগত মত, আমার মনে হয় না একজন ইম্প্যাক্ট প্লেয়ার থাকা উচিত। ক্রিকেট সাধারণত ১১ জনের খেলা… একজন অতিরিক্ত ব্যাটারকে যুক্ত করলে আমার মনে হয় খেলা থেকে কিছুটা দক্ষতা হারিয়ে যায়। ওই অতিরিক্ত একজন খেলোয়াড়ের জন্য খেলাটা একঘেয়েমি হয়ে ওঠে। আমার কাছে ফ্ল্যাট উইকেটে ২২০ রান তাড়া করার চেয়ে চ্যালেঞ্জিং উইকেটে ১৮০ বা ১৬০ রান তাড়া করা বেশি রোমাঞ্চকর।’
২০২৩ সাল থেকে চালু হয় ইম্প্যাক্ট প্লেয়ার। ভারতের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ড ও আইপিএল কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি অধিনায়ক ও ম্যানেজারদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। তারপর টিম ম্যানেজমেন্টকে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, এই নিয়ম অন্তত আরও এক মৌসুম চালু থাকবে।


