সব কিছু
facebook channelkhulna.tv
খুলনা শনিবার , ১৫ই ভাদ্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ৩০শে আগস্ট, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
নির্বাচন কর্মকর্তাদের জুতার মালা ও জেলের কথা মনে করিয়ে দিলেন ইসি | চ্যানেল খুলনা

নির্বাচন কর্মকর্তাদের জুতার মালা ও জেলের কথা মনে করিয়ে দিলেন ইসি

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ‘ইতিহাসের সেরা ভোট’ উপহার দেওয়ার প্রত্যয় রাখলেও সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখছে এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন। এই লক্ষ্যে কর্মকর্তাদের হুঁশিয়ার করে ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের নৈতিকতা, পেশাদারি ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)। একই সঙ্গে ‘বিতর্কিত ভোটের’ কারণে সাবেক দুই সিইসির এখন কারাবাস ও জুতার মালা পরানোর ঘটনাও তুলে ধরেন নির্বাচন কমিশনাররা।

আজ শুক্রবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (ইটিআই) ‘ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী কোর প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ’ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন সিইসি। এ সময় চার নির্বাচন কমিশনার, ইসির সিনিয়র সচিব ও ইটিআই মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নিরপেক্ষ হোন, প্রশিক্ষণের ওপর সফলতা নির্ভর করবে উল্লেখ করে সিইসি ভোটগ্রহণে সম্পৃক্ত নির্বাচন কর্মকর্তাদের আইন, বিধি জানার পাশাপাশি নৈতিকতা, সততার সঙ্গে নিরপেক্ষতা বজায় রাখার নির্দেশনা দেন। কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে মাঠ পর্যায়ে যেন সঠিকভাবে প্রশিক্ষণের প্রতিফলন ঘটে, সে বিষয়ে নজর রাখার তাগিদ দেন এবং এআইয়ের অপব্যবহার রোধে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সিইসি বলেন, আমাদের সামনে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ আসবে, যা আমরা এখনো জানি না। অপতথ্য, মিথ্যা তথ্য নিয়ে চ্যালেঞ্জ আসবে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে যাতে এটা প্রপারলি অ্যাড্রেস হয়, সেই বার্তা পৌঁছে দিতে হবে। আইনকানুনের বিষয়ে জানতে হবে। যেকোনো ধরনের নতুন চ্যালেঞ্জ এলে তা মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। ট্রেনিংকে সিরিয়াসলি নিতে হবে।

তিনি বলেন, প্রশিক্ষণের ওপর আমাদের সফলতা নির্ভর করছে। প্রশিক্ষণের বটমলাইন হচ্ছে—প্রোফেশনালিজম, প্রোফেশনালিজম, প্রোফেশনালিজম অ্যান্ড নিউট্রালিটি, নিউট্রালিটি, নিউট্রালিটি।

সাবেক দুই সিইসির পরিণতি দুঃখজনক, বিশ্লেষণ দরকার—জানিয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘আমার সহকর্মী বলে গেলেন নির্বাচনটা ঝুঁকিপূর্ণ হবে। এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে জুতার মালা পরানো হয়েছে। আরেকটু যোগ করে যদি বলি, আরেকজন প্রধান নির্বাচন কমিশনারও বর্তমানে কারান্তরে রয়েছেন। দুঃখজনক! এ পরিস্থিতির জন্য কে দায়ী, গভীর বিশ্লেষণের দরকার।’

তিনি বলেন, ‘আশা করি, একসময় বিশ্লেষণ হয়েও যাবে, গবেষণাও হয়ে যাবে। আমরা যারা আজকে দাঁড়িয়ে আছি, আজকে যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত, তারা কী করব? হোয়াটস আ মেকানিজম?’

সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করার ক্ষেত্রে ইসির ভূমিকা তুলে ধরে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘নিজের দায়িত্বটাকে আইনানুগভাবে করতে হবে। কারও দিকে না তাকিয়ে আইন মেনে কাজ করতে হবে; সংবিধান ও আইন মেনে কাজ করলেই সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি হবে। কে কী করল, কী ভাবল, চিন্তা করল—সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করার প্রয়োজন নেই।’

তিনি বলেন, ‘প্রিসাইডিং অফিসার হচ্ছেন মেইন পার্সন, তিনিই একমাত্র লোক, যিনি ফেয়ার ইলেকশন কনডাক্ট করবেন। তাঁর দায়িত্ব ঝুঁকিপূর্ণ হবে। সঠিক দায়িত্ব পালন করতে হবে।…আইন, সংবিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবেন। তা না হলে প্রশ্ন আসবে কোনো কোয়ার্টার থেকে কোন দপ্তর, বিভাগ থেকে প্ররোচিত হয়েছেন। আমরা ফ্রি, ফেয়ার ইলেকশন চাই।’

‘আগামী নির্বাচন সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হবে, জুতার মালার অংশীদার আপনিও’—এমন উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হবে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন, এতে কোনো সন্দেহ নেই।’

তিনি বলেন, ইসির প্রধান দায়িত্ব একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা। এর বিকল্প কোনো পথ নেই।

নিজেদের গণ-অভ্যুত্থানের ফসল উল্লেখ করে আগামী নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে করার বিষয়ে সবার দায়িত্বের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘ভালো নির্বাচন আমাদের কমিটমেন্ট হবে। এই যে এত রক্ত গেল, এত প্রাণ গেল, এত বছর মানুষের দুঃখ-কষ্ট; যদি সঠিক নির্বাচন হতো, এগুলো কিন্তু হতো না। আজকে নির্বাচন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের গলায় যদি জুতার মালা হয়, এটির অংশীদার কিন্তু আপনি; মনে করবেন না যে আপনি না।’

নির্বাচন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সুতরাং আবারও বলছি, আবারও অনুরোধ করছি, এমনভাবে প্রশিক্ষণ দেন, যে প্রশিক্ষণের মধ্যে থাকবে কমিটমেন্ট, যে প্রশিক্ষণের মধ্যে থাকবে যে, সুন্দর ও সঠিক নির্বাচনের কোনো বিকল্প নাই। এই তেজি ভাবটা, এই জিহাদি ভাবটা আমাদের মধ্যে যাতে কাজ করে সেই প্রত্যাশা রেখে এগোতে হবে।’

নির্বাচনে কোনো ‘ধানাই-পানাই’ হবে না মন্তব্য করে এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘জীবন চলে যেতে পারে। কিন্তু নির্বাচনে ফাঁকিবাজি, ধোঁকাবাজি করা যাবে না। কমিশন ও মাঠ পর্যায়ের সবাইকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে।’

প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের ‘নিউক্লিয়াস’ উল্লেখ করে সুষ্ঠু নির্বাচনে বড় ভূমিকা রাখতে হবে উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘প্রায় ৫০ হাজার প্রিসাইডিং অফিসার সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালন করলে নির্বাচন ভালো হবে। তাঁদের মেসেজ দিতে হবে নির্বাচনে কোনো ধানাইপানাই হবে না—এ বার্তা দিতে হবে। ভালো নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই, সুযোগ নেই।’

আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, নির্বাচন কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক স্মৃতি বা ইনস্টিটিউশনাল মেমোরি দুর্বল হয়ে যাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রেই কমিশন হোঁচট খাচ্ছে। তিনি কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান, গোপনীয়তা রক্ষা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে কমিশনের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।

প্রবাসীদের ভোট পদ্ধতি ও আইনকানুন বিষয়ে ভালো প্রশিক্ষণ দেওয়ার জোর দাবি জানান নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

আদালতের আদেশে এক যুগ পর চাকরি ফিরে পেয়ে নির্বাচন কমিশনে যোগ দেওয়া ৬০ জন নির্বাচন কর্মকর্তাকে শুধু পোস্টাল ব্যালটের জন্য প্রবাসীদের ভোটাধিকারের কাজে সম্পৃক্ত রাখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

ইসির কৃচ্ছ্রসাধনের প্রসঙ্গ টেনে এই নির্বাচন কমিশনার জানান, সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে নির্বাচন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে বুথের সংখ্যা পুনর্নির্ধারণ করার মাধ্যমে কমিশন ইতিমধ্যে প্রায় ১০০ কোটি টাকা সাশ্রয় করেছে। আগে পুরুষদের জন্য একটি বুথে ভোটার সংখ্যা ছিল ৫০০ এবং নারীদের জন্য ৪০০। এখন তা যথাক্রমে ৬০০ ও ৫০০ করা হয়েছে। এর ফলে প্রায় ৪৯ হাজার বুথ কমানো সম্ভব হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে প্রায় দেড় লাখ নির্বাচন কর্মকর্তার প্রয়োজনও কমেছে। শুধু একটি সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এত বড় অঙ্কের ব্যয় সাশ্রয় করা গেছে। ভবিষ্যতেও প্রতিটি ধাপে এই মিতব্যয়িতা নিশ্চিত করতে হবে।

এই নির্বাচন কমিশনার আশা প্রকাশ করেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন হবে বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি দৃষ্টান্ত। এ জন্য সবার প্রতি সৎভাবে ও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

ইসির সচিব আখতার আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ইইটিআই মহাপরিচালক এস এম আসাদুজ্জামান জানান, আগামী চার মাসে ভোট গ্রহণে সম্পৃক্ত ১০ লাখেরও বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও লোকবলকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

https://channelkhulna.tv/

জাতীয় আরও সংবাদ

৬ মাসে ধর্ষণের ঘটনা গত বছরের প্রায় সমান

নিউইয়র্কে তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমকে হেনস্তার চেষ্টা

অমীমাংসিত বিষয় সমাধানে পাকিস্তানের দাবি নাকচ করল সরকার

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকায়, অ্যাজেন্ডায় কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক আলোচনা

সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র ঢুকতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

মেঘনা নদীতে মিলল সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকারের মরদেহ

চ্যানেল খুলনা মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন  
সম্পাদক: মো. হাসানুর রহমান তানজির
It’s An Sister Concern of Channel Khulna Media
© ২০১৮ - ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | চ্যানেল খুলনা.বাংলা, channelkhulna.com.bd
যোগাযোগঃ ৫ কেডিএ বানিজ্যিক এলাকা, আপার যশোর রোড, খুলনা।
প্রধান কার্যালয়ঃ ৫২/১, রোড- ২১৭, খালিশপুর, খুলনা।
ফোন- 09696-408030, 01704-408030, ই-মেইল: channelkhulnatv@gmail.com
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদফতরে অনলাইন নিউজ পোর্টাল নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।