
এক প্রান্তে নিয়মিত উইকেটের পতন, অন্য প্রান্তে অবিচল তাওহীদ হৃদয়। সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মধ্যেও অসাধারণ দৃঢ়তায় ব্যাটিং করে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট শতককে রূপ দিলেন দ্বিশতকে। তাঁর অপরাজিত ২৪২ রানের ইনিংসে ভর করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৩০ রানের লিড পেয়েছে বাংলাদেশ।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের তৃতীয় দিনে ১১১.৫ ওভারে ৩৮৬ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। এর আগে প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ করেছিল ৩৫৬ রান। ফলে ৩০ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড নিয়ে প্রথম ইনিংস শেষ করে স্বাগতিকরা।
বাংলাদেশের এই লিডের মূল কৃতিত্ব হৃদয়ের। দিনের খেলা শুরু হয়েছিল আগের দিনের ৩ উইকেটে ৮৮ রান নিয়ে। তখন দলের ভরসা ছিলেন অপরাজিত থাকা মুশফিকুর রহিম ও হৃদয়। কিন্তু দিনের শুরুতেই ৭৬ বলে ৩৪ রান করে ফেরেন মুশফিক। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে ইনিংস বড় করতে থাকেন হৃদয়।
অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত করেন ১৮ রান। লিটন দাসের ব্যাট থেকে আসে ৮ রান। মেহেদী হাসান মিরাজ করেন ১৬। হাসান মাহমুদ ফেরেন ১ রান করে। অন্যদিকে তাইজুল ইসলাম ২২ এবং তাসকিন আহমেদ যোগ করেন ১২ রান। চোটের কারণে ব্যাটিংয়ে নামতে পারেননি সাদমান ইসলাম।
সতীর্থদের ব্যর্থতার মধ্যেও নিজের মনোযোগ ধরে রাখেন হৃদয়। নবম উইকেটে তাইজুল ইসলামের সঙ্গে এবং শেষ উইকেটে তাসকিন আহমেদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে বাংলাদেশকে লিড এনে দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকেই মাঠ ছাড়েন এই ডানহাতি ব্যাটার।
৩৫৯ বলের ইনিংসে ২২টি চার ও ১১টি ছক্কা হাঁকিয়ে ২৪২ রান করেন হৃদয়। ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি সুযোগ বুঝে আক্রমণাত্মক শট খেলেছেন তিনি। টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম শতকেই দ্বিশতক পূর্ণ করে গড়েছেন অনন্য কীর্তি।
এই ইনিংসের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডও নিজের করে নিয়েছেন হৃদয়। এর আগে দেশের হয়ে টেস্টে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ড ছিল মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালের দখলে থাকা দ্বিশতকগুলোর।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন জোমেল ওয়ারিকান। ৪১ ওভার বল করে ১০৪ রান দিয়ে চারটি উইকেট নেন তিনি। জয়ডেন সিলস পান দুটি উইকেট। এ ছাড়া শামার জোসেফ, জাস্টিন গ্রিভস ও রোস্টন চেজ একটি করে উইকেট শিকার করেন।


