
সাভারের বোট ক্লাবে ভাঙচুর, মারধর ও হুমকির অভিযোগে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির এক দিন পর জামিন পেয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমণি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান ৫০০ টাকা মুচলেকায় তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।
পরীমণির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে বুধবার একই আদালত পরীমণির জামিন বাতিল করে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। ওই দিন মামলাটিতে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। বাদীপক্ষ আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন করে। অন্যদিকে পরীমণির আইনজীবী সময় চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, অ্যালার্জিজনিত অসুস্থতার কারণে তিনি আদালতে হাজির হতে পারেননি।
পরে বাদীপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করে আদালত তাঁর জামিন বাতিল ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে আদালতে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণপূর্বক জামিনের আবেদন করেন পরীমণি। শুনানি শেষে বিচারক তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।
২০২২ সালের ৭ জুলাই ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব হাসানের আদালতে নাসির উদ্দিন মাহমুদ মামলাটি করেন। এতে পরীমণির পাশাপাশি তাঁর দুই সহযোগী ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমিকে আসামি করা হয়। আদালত ঘটনাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২১ সালের ৯ জুন রাত ১২টার পর পরীমণি ও তাঁর সহযোগীরা সাভারের বোট ক্লাবে যান। সেখানে দ্বিতীয় তলার ওয়াশরুম ব্যবহারের পর ক্লাবের ভেতরে বসে তাঁরা মদ পান করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
বাদীর ভাষ্য অনুযায়ী, রাত সোয়া একটার দিকে তিনি ও তাঁর সহযোগী শাহ শহিদুল আলম ক্লাব থেকে বের হওয়ার সময় পরীমণি তাঁকে ডাকেন এবং কিছুক্ষণ তাঁদের সঙ্গে বসতে বলেন। একপর্যায়ে পরীমণি একটি ব্লু লেবেল মদের বোতল বিনা মূল্যে পার্সেল দেওয়ার জন্য তাঁকে চাপ দেন বলে অভিযোগ করা হয়।
নাসির উদ্দিনের দাবি, এতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে গালমন্দ করেন পরীমণি। এ নিয়ে বাদী ও আসামিদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে পরীমণি তাঁর দিকে একটি সার্ভিং গ্লাস ও হাতে থাকা মোবাইল ফোন ছুড়ে মারেন। এতে তাঁর মাথা ও বুকে আঘাত লাগে বলে মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পরীমণি ও তাঁর সহযোগীরা তাঁকে মারধর, হত্যার হুমকি এবং ক্লাবে ভাঙচুর করেন। এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে পরীমণি সাভার থানায় বাদীসহ দুজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন বলেও দাবি করেন নাসির উদ্দিন।
পরে পিবিআই ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে পরীমণি ও তাঁর কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা বলা হয়। তবে ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় তাঁকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।
২০২৪ সালের ১৮ এপ্রিল পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে শুনানি শেষে আদালত পরীমণি ও জিমিকে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন। ওই বছরের ২৫ জুন ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এম. সাইফুল ইসলামের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান পরীমণি।


