
ইসলামে জিনা বা ব্যভিচারকে গুরুতর গুনাহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে এ কাজ থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোরআন ও হাদিসে জিনার পরিণতি এবং এ অপরাধের শাস্তি সম্পর্কে বিভিন্ন বর্ণনা রয়েছে।
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘আর তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয়ই তা অশ্লীল কাজ ও মন্দ পথ।’ (সুরা বনী ইসরাঈল, আয়াত: ৩২)
সুরা মুমতাহিনার ১২ নম্বর আয়াতেও মুমিন নারীদের শপথের প্রসঙ্গে শিরক, চুরি ও ব্যভিচার থেকে বিরত থাকার অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
হাদিসেও জিনার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। আবু দাউদে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, কোনো ব্যক্তি ব্যভিচারে লিপ্ত হলে তার ঈমানের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। পরে তওবা করলে ঈমান তার কাছে ফিরে আসে বলে হাদিসটিতে উল্লেখ রয়েছে।
বিবাহিত ও অবিবাহিত ব্যক্তির শাস্তির বিধান
ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী, জিনার অপরাধ প্রমাণিত হলে বিবাহিত ও অবিবাহিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে পৃথক শাস্তির বিধান রয়েছে। পবিত্র কোরআনের সুরা আন-নূরের ২ নম্বর আয়াতে ব্যভিচারী নারী ও পুরুষের প্রত্যেককে ১০০ বেত্রাঘাতের কথা বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, প্রচলিত ইসলামি ফিকহে নির্দিষ্ট শর্তে বিবাহিত ব্যক্তির জিনার অপরাধের জন্য রজমের বিধান হাদিসভিত্তিক দলিলের আলোকে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব বিধান প্রয়োগের ক্ষেত্রে অপরাধের ধরন, বৈবাহিক অবস্থা, প্রমাণের মানদণ্ড ও শরিয়তের নির্ধারিত শর্ত বিবেচ্য।
এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এ ধরনের শাস্তি কার্যকর করার অধিকার কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা সাধারণ মানুষের নেই। ইসলামি আইন অনুযায়ী, বৈধ বিচারিক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিধান রয়েছে।
জিনা থেকে বিরত থাকা ও তওবার গুরুত্ব
ইসলামে পাপ থেকে বিরত থাকা এবং ভুল হলে আন্তরিকভাবে তওবা করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জিনার মতো গুরুতর গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা, অনুতপ্ত হওয়া এবং পুনরায় সেই কাজে না ফেরার সংকল্প করা তওবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।


