
ভোক্তা পর্যায়ে বেসরকারি খাতের ১২ কেজি এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এতদিন এই সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা।
একই সঙ্গে সাড়ে ৫ থেকে ৪৫ কেজি ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের দামও আনুপাতিক হারে বাড়ানো হয়েছে। গাড়িতে ব্যবহৃত এলপিজি বা অটো গ্যাসের দাম প্রতি লিটার ৭৩ টাকা ৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিইআরসি নতুন এই দর ঘোষণা করে। কমিশন জানিয়েছে, নতুন দাম আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হবে।
তবে সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা এলপিজির সাড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এই সিলিন্ডারের দাম ৮২৫ টাকা। যদিও সরকারি এলপিজির সরবরাহ সীমিত হওয়ায় সাধারণ ভোক্তাদের বড় অংশ এর সুবিধা পান না।
বিইআরসি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম বাড়ার প্রভাবেই দেশের বাজারে নতুন করে দাম সমন্বয় করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে কমিশন।
২০২১ সালের ১২ এপ্রিল দেশে প্রথমবার মাসভিত্তিক এলপিজির মূল্য নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সে সময় ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ৯৭৫ টাকা। এরপর আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি অনুযায়ী বিভিন্ন সময়ে দাম বাড়ানো, কমানো কিংবা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তবে দাম বাড়ার ঘটনাই তুলনামূলক বেশি।
চলতি বছরের শুরুতে জানুয়ারিতে ১২ কেজি এলপিজির দাম ছিল ১ হাজার ২৫৩ টাকা। ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে ১ হাজার ৩৫৬ টাকা করা হয়। পরে ভ্যাট কমানোর কারণে ১৫ টাকা কমিয়ে দাম নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৩৪১ টাকা। মার্চে দাম অপরিবর্তিত ছিল।
এরপর এপ্রিলে দুই দফায় মোট ৫৯৯ টাকা বাড়িয়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৯৪০ টাকা করা হয়। প্রথম দফায় ৩৮৭ টাকা এবং দ্বিতীয় দফায় ২১২ টাকা বাড়ানো হয়েছিল।
পরে জুনে ৫৫ টাকা এবং জুলাইয়ে ৩৫৭ টাকা কমানো হয়। আগস্টে আবার ৭০ টাকা বাড়িয়ে দাম ১ হাজার ৫৯৮ টাকা করা হয়। সর্বশেষ সেপ্টেম্বরে ১৩ টাকা কমিয়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি।
এবার বিশ্ববাজারের দামের সঙ্গে সমন্বয় করে বেসরকারি খাতের ১২ কেজি এলপিজির দাম ২৫২ টাকা বাড়ানো হলো। একই সঙ্গে অন্যান্য ওজনের সিলিন্ডার এবং অটো গ্যাসের দামও আনুপাতিক হারে সমন্বয় করেছে কমিশন।


