
খুলনায় চুরি, শিশু অপহরণসহ নানা অপবাদের জেরে গত এক মাসে গণপিটুনিতে প্রাণ গেছে তিনজনের। এসব ঘটনায় মামলা হলেও এজাহারভুক্ত মূল আসামিদের অনেকেই এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। এতে আতঙ্কের পাশাপাশি আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
গত ১৮ আগস্ট নগরীর বয়রা রায়েরমহল বড় মসজিদের পাশে ‘ছেলেধরা’ সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত হন রাজু বিশ্বাস। এ ঘটনায় তিনজন গ্রেপ্তার হলেও অন্যদের গ্রেপ্তার করা যায়নি। মামলার অগ্রগতি নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন নিহতের বাবা।
৬ সেপ্টেম্বর তেলিগাতি এলাকায় চুরির অপবাদে সাজমির নামে এক চায়ের দোকানের কর্মচারীকে মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১০ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগে তিনি জবানবন্দি দেন। তবে মামলার এজাহারভুক্ত কাউকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
সর্বশেষ ১৮ সেপ্টেম্বর ভাত চুরির অভিযোগে প্রায় তিন ঘণ্টা মারধরের পর ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. আজমুল হোসেন। পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় চারজন গ্রেপ্তার হয়ে আদালতে জবানবন্দি দিলেও এজাহারভুক্ত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়নি।
মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম বলেন, সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের পাশাপাশি পারিবারিক শিক্ষার অভাবও এসব ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখছে। কেএমপির ডেপুটি পুলিশ কমিশনার এম এম শাকিলুজ্জামান বলেন, যুব সমাজকে সঠিক পথে রাখতে পরিবার ও সমাজকে দায়িত্ব নিতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আস্থা রাখতে হবে।
নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, ‘মব’ সংস্কৃতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এমন প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে খুলনায়।


