
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার নামোশংকরবাটি চৌকাপাড়ার একটি বাড়ি থেকে মরিয়ম বেগম (৫০) নামে এক গৃহশিক্ষিকার বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার সকালে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নামোশংকরবাটি উজ্জ্বলপাড়ার বাসিন্দা মরিয়ম বেগমের স্বামীর নাম মোসাদ্দেক হোসেন ওরফে আবুল কালাম। মরিয়ম বেগম বিভিন্ন বাসায় গিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার সকালে বেগম রুবেল নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে তাঁর মেয়েকে পড়াতে যান মরিয়ম। এরপর আর বাড়িতে তিনি ফেরেননি। দীর্ঘ সময় পর বাসায় ফিরে না আসায় মরিয়ম বেগমকে তাঁর পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ আজ সকালে রুবেলের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বস্তাবন্দী অবস্থায় মরিয়ম বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে।
স্থানীয়দের দাবি, স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই মরিয়ম বেগমকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তাদের অভিযোগ, ওই বাড়ির সুমি নামের এক নারীর বিরুদ্ধে এর আগেও জুস খাইয়ে মানুষকে অজ্ঞান করে স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান সামগ্রী হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
নিহতের স্বামী আবুল কালাম জানান, গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়। তখন মরিয়ম বেগম বলেছিলেন, ‘বাড়ি আসছি, এসে রান্না করব।’ কিন্তু এরপর আর তিনি বাড়ি ফেরেননি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বস্তাবন্দী অবস্থায় মরিয়ম বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য তাঁর মরদেহ জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মরিয়ম বেগমের মরদেহের মাথা ও চোখে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ছাড়া কানের দুল ছিঁড়ে নেওয়ার আলামত পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় সুমি, রুবেল ও দীপক নামে তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।


