
বাংলাদেশ মসজিদ মিশনের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল ড. মুহাম্মদ খলিলুর রহমান মাদানী বলেছেন, ১৯৭৩ সালে ২৫ নভে¤^র বাংলাদেশ মসজিদ মিশন দেশের কঠিন ক্রান্তিকালে প্রতিষ্ঠিত হয়| যখন ইসলাম এবং ইসলামী আন্দোলনের চরম দূর্দিন ছিল| আলেম-ওলামাদেরকে হেয় প্রতিপন্ন করা হতো, সকলের কন্ঠকে স্তব্ধ করা হয়েছিল| মসজিদের নামে কাজ করতে কোন বাঁধা দেয়া হয়না| ইমাম ও খতিবগণ যদি ঐক্যবদ্ধভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারি যে আমরা মসজিদের এলাকায় কোন সুদ, ঘুষ, মদ জুয়া অশ্লীলতা বেহায়াপনা থাকবে না, তাহলে কারো সাহস নাই এগুলো চর্চা করার| এ জন্য কুরআনকে বুকে নিয়ে ইসলামী মূল্যবোধ, ˆনতিকতা প্রতিষ্ঠা ও ন্যায় ইনসাফ ভিত্তিক মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে ইমাম-খতিবদের ঐক্যবদ্ধ ভুমিকা পালন করতে হবে| শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে খুলনার তা’লীমুল মিল্লাত রহমাতিয়া ফাযিল মাদরাসা মিলনায়তনে মসজিদ মিশন খুলনা মহানগরীর দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন|
মসজিদ মিশনের মহানগরী সভাপতি মাওলানা আ ন ম আব্দুল কুদ্দুসের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মাওলানা আবু বকর সিদ্দিকের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরী সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমপি| সম্মেলনে মহানগরী জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক নজিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট মুহাম্মদ শাহ আলম, অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, মাওলানা আজিজুর রহমান সিদ্দিকী, অধ্যক্ষ মাওলানা এ এফ এম নাজমুস সউদ প্রমুখ|
দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে মাওলানা আবু বকর সিদ্দিককে সভাপতি ও মাওলানা আব্দুর রহীমকে সেক্রেটারি করে ১৯ সদস্যের কমিটি গঠিত হয়েছে| কমিটির অন্যরা হলেন-সহ-সভাপতি যথাক্রমে অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, মাওলানা আজিজুর রহমান সিদ্দিকী, অধ্যক্ষ মাওলানা এ এফ এম নাজমুস সউদ ও মাওলানা মাসুম বিল্লাহ, যুগ্ম সম্পাদক যথাক্রমে মাওলানা মো. মনিরুজ্জামান, হাফেজ মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, মো. হাফিজুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা জাফর সাদিক আনসারী, অর্থ সম্পাদক অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম, শিক্ষা সম্পাদক মাওলানা শাহজান আলম, প্রচার সম্পাদক হাফেজ মাওলানা আব্দুর রহমান, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবীর, নির্বাহী সদস্য যথাক্রমে অধ্যাপক নজিবুর রহমান, এডভোকেট শফিকুল ইসলাম লিটন, মাওলানা নূরুল ইসলাম নূরানী, ডা. হাসানুল বান্না ও মো. বেলাল জামান|
সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন, মসজিদ মুসলিম উম্মাহর ইবাদত-বন্দেগির পাশাপাশি সব সামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু| একটি শিরকমুক্ত, বিদআতমুক্ত, সন্ত্রাস ও অপরাধমুক্ত এবং ˆনতিক মূল্যবোধভিত্তিক মানবিক সমাজ গঠনে মসজিদকে সক্রিয় ও আবাদ করা সময়ের দাবি| মসজিদকে দ্বীনি দাওয়াতের পাশাপাশি সমাজ উন্নয়ন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি| ইমামদের নেতৃত্বে সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ দল-মত নির্বিশেষে এক কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন| একইভাবে সকলকে ঐক্যবদ্ধ করে ইমামদের নেতৃত্বেই একটি আদর্শ, ˆনতিক ও কল্যাণমুখী সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব|
তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দেশে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ নানা ক্ষেত্রে যে ˆনরাজ্যকর পরিস্থিতি, সহিংসতা ও অস্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে, তা থেকে উত্তরণের একমাত্র কার্যকর পথ হলো ˆনতিক শিক্ষা ও ইসলামের আদর্শের বিস্তার| এ ক্ষেত্রে ইমামগণ সমাজে সচেতনতা সৃষ্টি ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারেন|
অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বলেন, যুগে যুগে নবী রাসুলগণ পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছেন| দ্বীনি আন্দোলন করতে গিয়ে ওলামায়ে কেরাম নবী গেেণর উত্তরসূরী| তাদেরকে নবী-রাসুলদের সেই গুরু দায়িত্ব পালন করতে হবে| আমাদের মসজিদ মাদরাসা গুলোকে সে আদলে গড়তে হবে| আমাদেরকে বেশি বেশি ইলমে দ্বীন চর্চা করতে হবে| ইসলামী রাষ্ট্র কায়েমের জন্য মসজিদের ইমাম-খতিবগণকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে|#


