সব কিছু
facebook channelkhulna.tv
খুলনা সোমবার , ২৩শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার: কতটুকু অবশিষ্ট, নিশ্চিত নয় ইসরায়েল | চ্যানেল খুলনা

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার: কতটুকু অবশিষ্ট, নিশ্চিত নয় ইসরায়েল

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার নিয়ে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) মধ্যে এখন গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যদিও আইডিএফ-এর অধিকাংশ কর্মকর্তা বিশ্বাস করেন যে, যুদ্ধের শুরুতে ইরানের কাছে থাকা মোট ২,৫০০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে এখন মাত্র কয়েকশ অবশিষ্ট আছে, যা ইসরায়েলে আঘাত হানতে সক্ষম। তবে, আইডিএফ-এর নির্ভরযোগ্য সূত্র জেরুজালেম পোস্টের কাছে স্বীকার করেছে যে, প্রকৃতপক্ষে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের সঠিক অবস্থা সম্পর্কে কেউ নিশ্চিতভাবে কিছু জানে না।

শনিবার রাতে চ্যানেল ১২-এর এক প্রতিবেদনে আইডিএফ বিমান বাহিনীর কর্নেল ‘টি’ (প্রকৃত নাম প্রকাশ করা হয়নি) দাবি করেন যে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের কাছে এখনও ১,০০০-এর বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। এই তথ্য আইডিএফ-এর পূর্বের অনুমানের (কয়েকশ ক্ষেপণাস্ত্র) সম্পূর্ণ বিপরীত, যা এক বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। জেরুজালেম পোস্ট এবং আইডিএফ-এর মধ্যে এই বিষয়ে আলোচনার সময়, সামরিক বাহিনী প্রথমে তাদের আগের অনুমান— অর্থাৎ কয়েকশ ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট থাকার কথা পুনরুল্লেখ করে। কিন্তু পরে তারা যোগ করে যে, কেউই আসলে নিশ্চিতভাবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের সঠিক সংখ্যা জানে না।

যুদ্ধের শুরুতে ইরানের কাছে থাকা ২,৫০০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে কতটি অবশিষ্ট আছে, তা নিয়ে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) মধ্যে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আইডিএফ-এর অধিকাংশ কর্মকর্তা বিশ্বাস করেন যে মাত্র কয়েকশ ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট আছে। তবে, আইডিএফ-এর নির্ভরযোগ্য সূত্র জেরুজালেম পোস্টের কাছে স্বীকার করেছে যে, প্রকৃতপক্ষে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের সঠিক অবস্থা সম্পর্কে কেউ নিশ্চিতভাবে কিছু জানে না
ইসরায়েলি হামলার পর কতটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের উপযোগী? এই অনিশ্চয়তার পেছনে প্রধান কারণ হলো, ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে কতটি আসলে ব্যবহারযোগ্য বা মেরামতযোগ্য? এর মধ্যে কতগুলো ক্ষেপণাস্ত্র সাময়িকভাবে ইরানের নাগালের বাইরে রয়েছে? এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার ক্ষেত্রে ধ্বংসস্তূপের ধরনও গুরুত্বপূর্ণ। কিছু ক্ষেত্রে সামান্য ধস নেমেছে, আবার কিছু ক্ষেত্রে বড় ধরনের ধস ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারকে পুরোপুরি চাপা দিয়েছে।

বিদেশি সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ইরান একদিনেরও কম সময়ের মধ্যে ধসে পড়া ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি বা সাইলো উন্মোচন বা পুনরুদ্ধার করতে পারছে কিংবা সেই সক্ষমতা তৈরি করতে পেরেছে। এমন পরিস্থিতিতে, এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো শুধুমাত্র ইরানের দীর্ঘমেয়াদি অস্ত্রাগারের অংশই নয়, বরং স্বল্পমেয়াদেও ব্যবহারের উপযোগী হতে পারে।

ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপক যন্ত্রের বিষয়টিও সম্পূর্ণ আলাদা। আইডিএফ বিভিন্ন সময়ে ইরানের কতগুলো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপক ধ্বংস হয়েছে এবং কতগুলো চাপা পড়ে অকার্যকর হয়েছে, তার ভিন্ন ভিন্ন হিসাব দিয়েছে। গড়ে ধরা হয় যে, প্রায় ৭০-৮০% উৎক্ষেপক সাময়িকভাবে হলেও অকার্যকর করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫০% ধ্বংস হয়েছে এবং ৫০% চাপা পড়েছে।

ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে কতটি ব্যবহারযোগ্য বা মেরামতযোগ্য, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। বিদেশি সূত্রের মতে, ইরান একদিনেরও কম সময়ের মধ্যে ধসে পড়া ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি বা সাইলো পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে, এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো শুধুমাত্র ইরানের দীর্ঘমেয়াদি অস্ত্রাগারের অংশই নয়, বরং স্বল্পমেয়াদেও ব্যবহারের উপযোগী হতে পারে, যা ইসরায়েলের জন্য চিন্তার কারণধারাবাহিকভাবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার হার হ্রাস পাচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্র এবং আইডিএফ কখনও কখনও দাবি করেছে যে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ৯০% হ্রাস পেয়েছে। কিন্তু আবার অন্য সময়ে দেখা গেছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার হার সাময়িকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তুলেছে। সাধারণভাবে দেখা গেছে, যুদ্ধের চতুর্থ দিনের মধ্যেই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার হার প্রতিদিন ২০টির নিচে নেমে আসে এবং সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এটি আরও কমে গেছে। এসব প্রশ্ন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণের প্রচেষ্টাকে কঠিন করে তুলছে।কিছু নিশ্চিত পরিসংখ্যান

এসব প্রশ্ন সত্ত্বেও, কিছু তুলনামূলকভাবে নিশ্চিত পরিসংখ্যান রয়েছে যা বিষয়টিকে বুঝতে সাহায্য করে। উদাহরণস্বরূপ, ইসরায়েল জানে যে ইরান তাদের দিকে ৫০০-র বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে। উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো প্রকাশ করেছে যে ইরান তাদের দিকে সম্মিলিতভাবে প্রায় ১,৩০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে।

আইডিএফ বারবার বলেছে, যুদ্ধের শুরুতে ইরানের কাছে প্রায় ২,৫০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। এই হিসাব অনুযায়ী, আইডিএফ যদি কোনো ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস নাও করত, তাহলেও ইরানের কাছে ৭০০টির কম ক্ষেপণাস্ত্র থাকার কথা। আর যদি ধরে নেওয়া হয় যে আইডিএফ অন্তত কয়েকশ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে, তবে ইরানের কাছে মাত্র কয়েকশ ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট থাকার কথা।

আইডিএফ-এর অনুমান অনুযায়ী, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ৯০% হ্রাস পেয়েছে এবং যুদ্ধের চতুর্থ দিনের মধ্যেই ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার হার প্রতিদিন ২০টির নিচে নেমে এসেছে। তবে, আইডিএফ বারবার বলেছে যে যুদ্ধের শুরুতে ইরানের কাছে ২,৫০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। এই হিসাব অনুযায়ী, আইডিএফ যদি কয়েকশ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করে থাকে, তবে ইরানের হাতে মাত্র কয়েকশ ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট থাকার কথা
ভুল অনুমানের সম্ভাবনা

এখনও এমন একটি সম্ভাবনা রয়ে গেছে যে, যুদ্ধের শুরুতে ইরানের কাছে থাকা মোট ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা আইডিএফ কম অনুমান করেছিল। এমন ঘটনা আগেও ঘটেছে। আইডিএফ ২০২৫ সালের জুনে বলেছিল, ইরানের হাতে ২,৫০০টি ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, কিন্তু কয়েক মাস পরে সেই সংখ্যা সংশোধন করে ৩,০০০ বলেছিল। এই তথ্যটি নির্দেশ করে যে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা সম্পর্কে আইডিএফ-এর অনুমান পরিবর্তন হতে পারে এবং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণের প্রচেষ্টা কঠিন হতে পারে।

সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট

https://channelkhulna.tv/

আন্তর্জাতিক আরও সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র কেন নিজের বিমান নিজেই ধ্বংস করল?

ভূমধ্যসাগরে নৌযান ডুবে ৭০ অভিবাসনপ্রত্যাশী নিখোঁজ

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার: কতটুকু অবশিষ্ট, নিশ্চিত নয় ইসরায়েল

হরমুজ থেকে অবরোধ প্রত্যাহারে ইরানকে নতুন ডেডলাইন ট্রাম্পের

যুদ্ধবিমানের ক্রুকে উদ্ধারে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের দুই বিমান ধ্বংস

বিধ্বস্ত বিমানের পাইলট ও ক্রুকে উদ্ধার নিয়ে যা বললেন ট্রাম্প

চ্যানেল খুলনা মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন  
সম্পাদক: মো. হাসানুর রহমান তানজির
It’s An Sister Concern of Channel Khulna Media
© ২০১৮ - ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | চ্যানেল খুলনা.বাংলা, channelkhulna.com.bd, channelkhulna.bd
যোগাযোগঃ ৫ কেডিএ বানিজ্যিক এলাকা, আপার যশোর রোড, খুলনা।
প্রধান কার্যালয়ঃ ৫২/১, রোড- ২১৭, খালিশপুর, খুলনা।
ফোন- 09696-408030, 01704-408030, ই-মেইল: channelkhulnatv@gmail.com
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদফতরে অনলাইন নিউজ পোর্টাল নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।