মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়ায় বাংলাদেশে জ্বালানি নিরাপত্তা চরম ঝুঁকিতে রয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নাগরিক সংগঠন ফোরাম ফর ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ফেড)-খুলনা। একই সঙ্গে সংকট মোকাবেলায় দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের জন্য সরকারের প্রতি ১৩ দফা প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়েছে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ূন কবির বালু মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির আহ্বায়ক আনোয়ারুল কাদির লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে কৌশলগত হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান থেকে তেল ও গ্যাস আমদানি কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে সরাসরি সংঘাত এলাকা থেকে দূরে থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ বড় ধরনের অর্থনৈতিক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
সংগঠনটি জানায়, দেশের জ্বালানি খাত এখন আমদানিনির্ভর হয়ে পড়েছে। অভ্যন্তরীণ গ্যাসের মজুদ কমে যাওয়ায় এলএনজি, এলপিজি ও পেট্রোলিয়ামের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসে জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ১ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার, যা চলতি হিসাবের ঘাটতি ও মুদ্রাস্ফীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
ফেড-এর দাবি, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় বাংলাদেশের এলএনজি আমদানির প্রায় ৬৩ শতাংশ কমে যেতে পারে। ইতোমধ্যে গ্যাস ও তেলের সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় অর্ধেক অব্যবহৃত রয়েছে এবং রপ্তানিমুখী শিল্পে উৎপাদন কমে গেছে প্রায় ৪০ শতাংশ।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রতি এমএমবিটিইউ ১০ দশমিক ৭৩ ডলার থেকে বেড়ে ২৮ দশমিক ২৮ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭২ ডলার থেকে বেড়ে ১১৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য বড় চাপ সৃষ্টি করছে।
সংগঠনটি জানায়, দেশের ৪ কোটির বেশি পরিবারের মধ্যে অন্তত ৪১ শতাংশ পরিবার ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করলে ১৬ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। পাশাপাশি ডিজেলচালিত সেচপাম্প সৌরশক্তিতে রূপান্তর করলে বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার জ্বালানি আমদানি সাশ্রয় করা যেতে পারে।
সংকট উত্তরণে ফেড ১৩ দফা সুপারিশ তুলে ধরে। এর মধ্যে রয়েছে, জ্বালানি বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য গঠন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে কর ও শুল্ক প্রত্যাহার, জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি বাস্তবায়ন, সৌর পার্ক দ্রুত অনুমোদন, সৌরচালিত সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, বৈদ্যুতিক যানবাহন চালু, দক্ষ জনবল তৈরি এবং স্বল্পসুদের তহবিল গঠন।
এছাড়া রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র দ্রুত চালু, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি সতর্ক করে বলে, বর্তমান সংকট মোকাবেলায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।


