অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ইসলামী ধারার ছয়টি ব্যাংকের কয়েক হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১৯ এপ্রিল) বেলা ১১টায় রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির সামনে এ মানববন্ধনে ওই ছয়টি ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশগ্রহণ করেন। ব্যাংকগুলো হলো— ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, গ্লোবাল ইসলামি ব্যাংক পিএলসি এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি। ‘ব্যাংকিং খাতে বৈষম্য ও গণহারে চাকরিচ্যুর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান’ শীর্ষক এই মানববন্ধনে ওই ছয় ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের স্বপদে পুনর্বহালের দাবি জানান। একইসঙ্গে তারা দলীয় কর্মীদের অবৈধ নিয়োগ, অবৈধ চেয়ারম্যান জোবায়দুর রহমান, এমডি, এডিশনাল এমডি, ডিএমডিসহ জুলুমবাজ ম্যানেজমেন্ট ও পর্ষদের পদত্যাগ দাবি জানান।
মানববন্ধন থেকে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। এর মধ্যে অন্যতম স্লেগান ছিল- “উই ওয়ান্ট জাস্টিস”, “প্রশাসনের বিরুদ্ধে দফা এক-দাবি এক, অবৈধ ম্যানেজমেন্টের পদত্যাগ”, “আমার সোনার বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই”, “তুমি কে, আমি কে, মজলুম, মজলুম”। আন্দোলনকারীরা বলেন, আমরা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবির না করার অপরাধে আমাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। আমরা জামায়াত-শিবির সমর্থক হলে আজ আমাদের এই দুরবস্থায় পড়তে হতো না। শুধুমাত্র দলীয় ব্যানার না থাকায় যদি আমাদের চাকরিচ্যুত হতে হয়, সেটি রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে আমাদের জন্য লজ্জাজনক। আন্দোলনকারীরা আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর একটি প্রভাবশালী কুচক্রী গোষ্ঠীর প্রভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোতে ব্যাপক হারে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক বদলি, আইডি ইনঅ্যাকটিভ করা, প্রশাসনিক হয়রানি এবং তথাকথিত ‘দক্ষতা মূল্যায়ন’ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে প্রায় ১০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি হারিয়েছেন, যা হাজারো পরিবারকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে।


