
হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (এইচপিভি) প্রতিরোধে ৪ থেকে ৮ বছর বয়সী মেয়েদের নিয়মিত টিকাদান চালুর বিষয়টি বিবেচনার সুপারিশ করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) টিকা বিশেষজ্ঞরা। টিকার গ্রহণযোগ্যতা ও আওতা বাড়াতে দেশগুলোকে এ সুযোগ বিবেচনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ডব্লিউএইচওর স্ট্র্যাটেজিক অ্যাডভাইজরি গ্রুপ অব এক্সপার্টস অন ইমিউনাইজেশনের (এসএজিই) প্রধান অ্যান্থনি স্কট জানান, বিশ্বের প্রায় ১৬৫টি দেশে এইচপিভি টিকাদান কর্মসূচি চালু হয়েছে। তবে বৈশ্বিকভাবে টিকা গ্রহণের হার ৩৩ শতাংশ, যা সংস্থাটির ৯০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অনেক কম।
স্কট বলেন, কোনো দেশ যদি মনে করে কম বয়সী মেয়েদের টিকাদান চালুর মাধ্যমে টিকার গ্রহণযোগ্যতা ও আওতা বাড়ানো সম্ভব, তাহলে তারা ৪ থেকে ৮ বছর বয়সীদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।
ডব্লিউএইচওর টিকা বিভাগের প্রধান কেট ও’ব্রায়েন জানান, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ ৯ কোটি ৫০ লাখের বেশি মেয়ে এইচপিভি টিকা পেয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের পর্যালোচনায় ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সী মেয়েদের জন্য এক ডোজের টিকাসূচিকে বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের কার্যকর উপায় হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অগ্রাধিকারভিত্তিতে ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত যেসব নারী নির্ধারিত সময়ে টিকা নিতে পারেননি, তাঁদের টিকা দেওয়ার সুযোগ রাখা এবং এরপর ৩০ বছর বয়স পর্যন্ত নারীদের টিকাদান সম্প্রসারণের সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সী ছেলেদের নিয়মিত এবং ২০ বছর বয়স পর্যন্ত বাদ পড়া ছেলেদের টিকা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
এর আগে, ২০২২ সালে এসএজিই ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সী মেয়েদের এক বা দুই ডোজের টিকা নেওয়ার সুপারিশ করেছিল। ১৫ থেকে ২০ বছর বয়সী তরুণীদের ক্ষেত্রেও একই সূচি প্রযোজ্য ছিল। ২১ বছরের বেশি বয়সী নারীদের ছয় মাসের ব্যবধানে দুই ডোজ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।
ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ২৬টি দেশে নারীদের ক্যানসারজনিত মৃত্যুর প্রধান কারণ জরায়ুমুখের ক্যানসার। এসব দেশের বেশির ভাগই সাব-সাহারান আফ্রিকায় অবস্থিত। দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকা, মেলানেশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু এলাকাতেও এ রোগ নারীদের ক্যানসারজনিত মৃত্যুর প্রধান কারণ।


