কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও টেকসই রান্নার জ্বালানি নিশ্চিত করতে ১ কোটি কানাডিয়ান ডলার (CAD 10 million) সহায়তা ঘোষণা করেছে কানাডা।
এই অর্থায়ন জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা UNHCR এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (IOM)-এর মাধ্যমে ব্যয় করা হবে। এর ফলে শরণার্থীদের জন্য তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সরবরাহ অব্যাহত থাকবে। এতে জ্বালানি কাঠের ওপর নির্ভরতা কমবে, আশপাশের নাজুক পরিবেশ রক্ষা পাবে এবং বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং বলেন, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় কানাডা দীর্ঘদিনের নির্ভরযোগ্য অংশীদার। এই জলবায়ু-সংবেদনশীল সহায়তা বন উজাড় ও কার্বন নিঃসরণ কমাতে সহায়তা করবে, পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা বাড়াবে।
কক্সবাজার বাংলাদেশের অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা, যেখানে বন্যা, ভূমিধস, ঘূর্ণিঝড় ও অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি রয়েছে। ২০১৮ সালে এলপিজি বিতরণ শুরু হওয়ার পর থেকে শরণার্থী পরিবারগুলোর জ্বালানি কাঠের ব্যবহার প্রায় ৮০ শতাংশ কমেছে, ফলে প্রতি বছর আনুমানিক ৪ লাখ ৭ হাজার টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ রোধ করা সম্ভব হচ্ছে।
বাংলাদেশে UNHCR-এর ডেপুটি প্রতিনিধি জুলিয়েট মুরেকেইসোনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের নয় বছর পার হলেও এটি এখনও বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী সংকট। এ সময় কানাডার সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং শরণার্থীদের মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখা জরুরি।
বাংলাদেশে IOM-এর ভারপ্রাপ্ত চিফ অব মিশন জিউসেপ্পে লোপ্রেতে বলেন, দীর্ঘদিনের দুর্ভোগে থাকা শরণার্থী পরিবারগুলোর জন্য নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সহায়তা তাদের স্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস নিশ্চিত করবে এবং বন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ভূমিকা রাখবে।
এই অর্থায়নের মাধ্যমে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫০০টি শরণার্থী পরিবার এলপিজি সুবিধা পাবে এবং কক্সবাজারে প্রায় ১০ হাজার ৭০০ হেক্টর সংরক্ষিত বন রক্ষা করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি ভূমিধসের ঝুঁকি কমানো, পাহাড়ের ঢাল স্থিতিশীল রাখা এবং মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাত হ্রাসেও সহায়তা করবে এই উদ্যোগ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এলপিজি কর্মসূচি ইতোমধ্যে ক্যাম্পগুলোতে বায়ুদূষণ কমিয়েছে এবং রান্নার জ্বালানিতে ব্যয় কমিয়েছে, যা মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


