
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় পূর্ব শত্রুতার জেরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ওয়াহিদুজ্জামান নইমুল (৭৬) কে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করেছে একদল সন্ত্রাসী। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বালুয়াকান্দি বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন জিস্ট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আহত ওয়াহিদুজ্জামান নইমুল উপজেলার বালুয়াকান্দি গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে স্থানীয় নাসিমুল-মনির গংদের সাথে বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়াহিদুজ্জামান নইমুলের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। আজ দুপুরে বিরোধপূর্ণ জমি পরিমাপের একপর্যায়ে তিনি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দিকে এগোলে আগে থেকে ওত পেতে থাকা ১০-১২ জন সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সন্ত্রাসীরা তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে রাস্তায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভুক্তভোগী ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ‘ল্যাংড়া খোকনের ছেলে তুহিন ও তার ছোট ভাইসহ অন্তত ১০-১২ জন আমার ওপর হামলা চালিয়েছে। গতকাল রাতেও তারা আমাকে হুমকি দিয়েছিল। তুহিন একজন চিহ্নিত অপরাধী এবং ছাত্রলীগ নেতা। সরকার পরিবর্তনের পর সে দীর্ঘদিন জেল খেটে সম্প্রতি জামিনে বেরিয়ে এসে পুনরায় এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু করেছে।’
গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শারমিন সুলতানা জানান, ‘আহত ব্যক্তির অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। তার একটি হাত ও একটি পা ভেঙে গেছে এবং মাথার পেছনে ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাত রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।’
গজারিয়া থানার ওসি মো. হাসান আলী বলেন, ‘খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এখনো পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
উল্লেখ্য, আহত ওয়াহিদুজ্জামান নইমুল গত কয়েক বছর ধরে স্থানীয় রাজনীতি ও নানা ঘটনায় আলোচিত। ২০২৪ সালের মে মাসে তিনি বালুয়াকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান শহীদুজ্জামান জুয়েলের বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও অপহরণের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন। আজকের হামলার মূল অভিযুক্ত তুহিন ওই সাবেক চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। অপরদিকে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের একটি অংশ ওই ঘটনার আগে সংবাদ সম্মেলন করে ওয়াহিদুজ্জামানকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দাবি করেছিলেন যা নিয়ে সে সময় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।


