
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে ‘ভেনেজুয়েলার মতো অপহরণ করতে পারেন কি না’—এমন মন্তব্য করে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনার মুখে পড়েছেন ভারতের কংগ্রেস নেতা পৃথ্বীরাজ চবন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর এই মন্তব্যকে অনেকেই ‘অবাস্তব’, ‘হাস্যকর’ ও ‘দেশের জন্য অপমানজনক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
সম্প্রতি ভেনেজুয়েলায় রাতের আঁধারে মার্কিন সামরিক অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের প্রসঙ্গ টেনে পৃথ্বীরাজ চবন প্রশ্ন তোলেন—‘ভেনেজুয়েলায় যা হয়েছে, ভারতের ক্ষেত্রেও কি তেমন কিছু হতে পারে? ট্রাম্প কি আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে অপহরণ করবেন?’
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, চবনের এই প্রশ্নকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র কটাক্ষ শুরু হয়। অনেকেই মন্তব্য করেন, একটি পারমাণবিক শক্তিধর ও সার্বভৌম রাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার তুলনা করা চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা।
চবনের মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা এসপি বৈদ। তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় যা করেছেন, তা নরেন্দ্র মোদির ক্ষেত্রেও হতে পারে—এমন ভাবনা পুরো দেশের জন্য অপমানজনক। কথা বলার আগে অন্তত ভাবা উচিত। নাকি এটাই এখন কংগ্রেসের আসল আদর্শ?’ বৈদের এই বক্তব্য বিতর্ক আরও উসকে দিয়েছে।
পৃথ্বীরাজ চবনের মন্তব্যটি এমন এক সময়ে এল, যখন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ শুল্ক আরোপ ও রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতের তেল আমদানি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে প্রায়ই আক্রমণ করছেন।
সম্প্রতি কংগ্রেসের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে দাবি করেছেন, একটি অডিও ক্লিপে ট্রাম্প বলেছেন—রাশিয়ার তেল আমদানির বিষয়ে মোদি তাঁকে ‘খুশি করতে’ চেয়েছেন। খাড়গে এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ব্যঙ্গ করে বলেন, মোদি যেন ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন।
কংগ্রেস নেতা চবন মনে করেন—যুক্তরাষ্ট্র যদি ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে, তাহলে কার্যত ভারত–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য অচল হয়ে যাবে। এতে ভারতের রপ্তানিকারকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং বিকল্প বাজার খুঁজতে হবে।
তবে এসব রাজনৈতিক বিতর্কের মাঝেও পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা। টানা দুই মাস নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির পর চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) নভেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের পণ্য রপ্তানি ২২ দশমিক ৬১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৬ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এপ্রিল থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের মোট রপ্তানি বেড়েছে ১১ দশমিক ৩৮ শতাংশ।


