
বাংলাদেশে চলমান গণপিটুনি এবং নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশে ব্রিটেনের হাইকমিশনার সারাহ ক্যাথরিন কুক। বিচারবহির্ভূত সহিংসতা (মব ভায়োলেন্স) প্রতিরোধে নতুন সরকারের প্রতি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়ে মানবাধিকার ও মব ভায়োলেন্স নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান তিনি। কূটনৈতিক সংবাদদাতা সমিতি, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) এর আয়োজন করে।
ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বলেন, বিচারবহির্ভূত সহিংসতা (মব ভায়োলেন্স) প্রতিরোধে নতুন সরকারের প্রতি পদক্ষেপ গ্রহণ ও উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানাই। বাংলাদেশের নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই আইনের শাসন বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া সরকারি মন্ত্রীরা সম্প্রদায়ের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং আইনের শাসন সমুন্নত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যা মব ভায়োলেন্স মোকাবিলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন বলে বিশ্বাস করি।
মানবাধিকার রক্ষায় যুক্তরাজ্যের প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরে সাংবাদিকের সারাহ কুক বলেন, ব্রিটিশ সরকার, জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার রক্ষা ও প্রচারে তাদের দীর্ঘদিনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। তারা (ব্রিটিশ) আন্তর্জাতিক নিয়ম-ভিত্তিক ব্যবস্থা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য সম্প্রতি মিডিয়া ফ্রিডম কোয়ালিশনের গ্লোবাল কো-চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। এটি মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি যুক্তরাজ্যের শক্তিশালী অঙ্গীকারের একটি নিদর্শন।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সংঘাত নিয়ে সারাহ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাত কেবল ওই অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি বাংলাদেশ এবং যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিসহ বিশ্বজুড়ে প্রভাব ফেলছে। যুক্তরাজ্য এই সংকটের একটি কূটনৈতিক সমাধানের জন্য কাজ করছেও বলে জানান তিনি।
সারাহ কুক আরও বলেন, গত ১৭ এপ্রিল যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁসহ ৪৫টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বৈঠক করেছেন। এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা এবং সংকটের একটি কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করা।


