
ভারতের মহারাষ্ট্রে গত দুই বছরে ৯৩ হাজারের বেশি নারী নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এঁদের মধ্যে ৬৭ হাজারের বেশি নারীকে খুঁজে বের করে তাঁদের পরিবারের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য উইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালেই মহারাষ্ট্রে ৪৮ হাজারের বেশি নারী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ৪৫ হাজারের বেশি। এর মধ্যে পুলিশি অভিযানে ২০২৫ সালে ৩০ হাজার ৮৭৭ জন নারীকে এবং ২০২৪ সালে ৩৬ হাজার ৫৮১ জন নারীকে খুঁজে বের করা হয়েছে।
একই সময়ে ২০২৪ সালে নিখোঁজ অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের সংখ্যা ছিল ১১ হাজার ৩১৩ এবং ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১২ হাজার ১১৩ জনে।
সম্প্রতি রাজ্যের বিধানসভায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য উপস্থাপনের সময় রাজ্য স্বরাষ্ট্র দপ্তর এসব তথ্য প্রকাশ করে। বিধানসভায় বিষয়টি উত্থাপিত হলে সরকার জানায়, ২০১৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ‘অপারেশন মুসকান’ ১৩ বার পরিচালিত হয়েছে। এসব অভিযানে ৪১ হাজারের বেশি অপ্রাপ্তবয়স্ককে খুঁজে বের করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে অপারেশন মুসকানের আরেকটি ধাপ চলমান রয়েছে, যার আওতায় এখন পর্যন্ত ৪৫৪ জন ছেলে এবং ৯৪৭ জন মেয়েকে উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, অপারেশন মুসকান একটি দেশব্যাপী পরিচালিত উদ্যোগ, যার লক্ষ্য নিখোঁজ শিশুদের খুঁজে বের করে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া। এটি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বৃহত্তর কর্মসূচির অংশ, যেখানে বিশেষভাবে মেয়েশিশুদের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
রাজ্য স্বরাষ্ট্র দপ্তরের জমা দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ভারতের মুম্বাই, নবি মুম্বাই, রায়গড়, নাগপুর এবং ছত্রপতি সম্ভাজিনগর জেলাগুলো থেকে ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী মোট ৪ হাজার ৯৮৯ জন ছেলে-মেয়ে নিখোঁজ হয়েছিল। এর মধ্যে ৪ হাজার ৮১৩ জনকে পুলিশ খুঁজে বের করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে, ফলে উদ্ধার হার দাঁড়িয়েছে ৯৬ শতাংশ।
সামগ্রিকভাবে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে নিখোঁজ নারীদের ক্ষেত্রে উদ্ধার হার ৭১ শতাংশ এবং একই সময়ে নিখোঁজ অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের ক্ষেত্রে উদ্ধার হার ৮০ শতাংশ।


